শুক্রবার, মে ১, ২০২৬

আত্মশুদ্ধির সেতুবন্ধন: বরকতময় শাবান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • ২০২৬-০১-২৩ ১৩:৪৭:০৩
ফাইল ছবি

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ মাসগুলোর মধ্যে শাবান এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। রজব ও রমজানের মাঝখানে অবস্থান করা এই মাসকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিশেষ মর্যাদার মাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আলেমদের মতে, শাবান হলো আত্মশুদ্ধির প্রস্তুতি এবং রমজানের জন্য নিজেকে গড়ে তোলার সুবর্ণ সময়।
এই মাসে ইবাদতের প্রতি মনোযোগ বাড়ানোর বিশেষ সুযোগ রয়েছে। বেশি বেশি নফল রোজা, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও নফল নামাজের মাধ্যমে একজন মুমিন তার আত্মাকে শুদ্ধ করতে পারেন। বিশেষত শাবানের প্রথমার্ধে নফল রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। তবে রমজান ঘনিয়ে এলে রোজার পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে আনা উত্তম, যাতে শাবানের রোজা সরাসরি রমজানের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে যায়।
শাবান মাসকে পূর্বসূরি অনেক নেককার মানুষ ‘কোরআনের মাস’ বলেও অভিহিত করতেন। কারণ, এই সময় নিয়মিত তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তুললে রমজানে তা সহজ হয়ে যায়। পাশাপাশি জিকির ও আল্লাহর স্মরণে নিজেকে অভ্যস্ত করাও এই মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমল।
রমজানের সিয়াম ও ইবাদত যথাযথভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল, আদব ও শৃঙ্খলা শাবান মাসেই ঝালিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন আলেমরা। এটি মূলত আত্মিক ও মানসিক প্রস্তুতির একটি প্রশিক্ষণকাল।
শাবান মাসে একটি বিশেষ দোয়াও পাঠ করার কথা বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের বরকত লাভের আশায় এই দোয়াটি পড়তেন-
'হে আল্লাহ, আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।'
হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসে শাবানের মতো এত বেশি রোজা রাখতেন না। এটি প্রমাণ করে, শাবান মূলত রমজানের জন্য আত্মাকে প্রস্তুত করার এক অনন্য সময়।
বরকতময় এই মাসকে কাজে লাগিয়ে আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের ইমান, আমল ও চরিত্র শুদ্ধ করার আন্তরিক চেষ্টা করা-যাতে রমজান আমাদের জীবনে সত্যিকার অর্থেই পরিবর্তন বয়ে আনতে পারে।

 


এ জাতীয় আরো খবর