বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে কুষ্টিয়া আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) কুষ্টিয়া কোর্টে মামলাটি করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান চৌধুরী শিহাব।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় মুফতি আমির হামজা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে ব্যঙ্গাত্মক ও অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রসঙ্গে বিদ্রূপমূলক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
বাদীর ভাষ্যমতে, গত ১৬ জানুয়ারি বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হল এলাকায় অবস্থানকালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ভিডিওগুলো দেখতে পান। পরে বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তের বক্তব্য মরহুম আরাফাত রহমান কোকো, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তাদের পরিবারের সম্মান ও সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। এসব অভিযোগ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আবেদনে আসামির বিরুদ্ধে সমন অথবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রার্থনাও জানানো হয়েছে।
মামলার বাদী সোলায়মান চৌধুরী শিহাব বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা মামলা নয়। একজন মরহুম ব্যক্তি ও দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। সামাজিক শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ বজায় রাখার দায়িত্ব থেকেই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছেন এবং আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন। তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
এ বিষয়ে মুফতি আমির হামজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যক্তিগত সহকারী আবু বকর জানান, এখন পর্যন্ত তারা আদালতের কোনো নোটিশ পাননি। নোটিশ পেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগে মুফতি আমির হামজা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন। ওই পোস্টে তিনি নিজের মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকার কথা উল্লেখ করে তার অবর্তমানে তিন কন্যাসন্তানের খোঁজখবর রাখার অনুরোধ জানান এবং কুষ্টিয়ায় ইনসাফ কায়েমের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
কী-ওয়ার্ডসঃআমির হামজা মামলা,মানহানির অভিযোগ,কুষ্টিয়া আদালত