মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ভারতীয় জলসীমায় বিএসএফর হাতে আটকের পর মৃত বাংলাদেশীর মরদেহ ফেরৎ

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০১-০৫ ২১:২১:১১

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের জহুরপুরটেক সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাবার পর পদ্মা নদীর ভারতীয় জলসীমায় বিএসএফর হাতে আটকের পর  মৃত রবিউল ইসলাম(৩৬) নামে এক বাংলাদেশীর  মরদেহ হস্তান্তর করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার(৫ জানূযারী) রাত সাড়ে ৯টায় বিজিবি ও বিএসএফ’র উপস্থিতিতে ভারতীয় পুলিশ বাংলাদেশ পুলিশের নিকট মরদেহ হস্তান্তর করে। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে মরদেহ গ্রহণ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ইসলামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) তজিমুল হক। এ সময়  রবিউলের  পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।  
এর আগে গত রোববার(৪ জানুয়ারী) বিএসএফ হেফাজতে রবিউলের মৃত্যু হয়। রবিউল নারায়নপুরের ২ নং ওয়ার্ডের সাতরশিয়া গ্রামের  নেজাবুল হকের ছেলে। তিনি গরু চোরাচালানে জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে। সোমবার জহুরপুরটেক সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফ পতাকা বৈঠকের পর মেইন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ২৩/৮ এর নিকট  মরদেহ হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছেন এসআই তজিমুল। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩বিজিবি) অধিনায়ক লে.কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ৭১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বয়রাঘাট ক্যাম্প ও বিজিবির জহুরপুরটেক বিওপির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে  গত রোববার বিএসএফ  আটকের পর অসুস্থ হয়ে রবিউলের মৃত্যু হয়েছে দাবি করলেও স্থানীয়দের  অভিযোগ বিএসএফর হাতেই তিনি নিহত হন।  
এ ঘটনায় গত রোববার সন্ধ্যায় জহুরপুরটেক সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানী কমান্ডার পর্যায়ে প্রথম  পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ রবিউলের মৃত্যুর বিষয়টি  নিশ্চিত করে। তারা জানায় ময়নাতদন্তের পর মরদেহ ফেরৎ দেয়া হবে। বৈঠকে বিএসএফ জানায়,রবিউলকে বোট নিয়ে ধাওয়া করে আহত ও অসুস্থ অবস্থায়  আটকের পরে  হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গত রোববার ভোররাতে ৩/৪ জন বাংলাদেশী গরু আনতে ভারতে যাবার পর  অন্যরা পালিয়ে আসলেও নদী থেকে বিএসএফ এর হাতে আটক হন রবিউল। আটকের পর তাঁকে সংশ্লিষ্ট বিএসএফ ক্যাম্পে নেয়া হয়। এরপর মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর হাসপাতালে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
৫৩বিজিবি অধিনায়ক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত রোববার সকাল থেকেই  সীমান্তের ওপারে এক বাংলাদেশীর মৃত্যুর খবর  পায় বিজিবি। পরে  বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রবিউলের বাবা জহুরপুরটেক ক্যাম্পে এসে সীমান্ত সূত্রে ও  ভারত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেরে  রবিউলের মারা যাবার খবর দেন। তাঁর ছেলে  কিছুটা অসুস্থ ছিল বলেও জানান তিনি। এরপর সন্ধ্যায়  বিজিবির সাথে  ৭১ বিএসএফর বয়রাঘাট ক্যাম্পের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মরদেহ ও মৃত্যু সংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত  হওয়া যাবে। তারপর সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান অধিনায়ক মুস্তাফিজ।


এ জাতীয় আরো খবর