দেশজুড়ে মোবাইল জালিয়াতির ভয়াবহ বাস্তবতা সামনে এনেছে সদ্য চালু হওয়া ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম। এই প্রযুক্তিগত নজরদারির আওতায় দেখা গেছে, দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে লাখ লাখ ক্লোন ও নকল হ্যান্ডসেট সক্রিয় রয়েছে, যেগুলোতে ব্যবহৃত হচ্ছে ভুয়া ও ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর।
শনিবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এনইআইআর সিস্টেমে বিশ্লেষণে ‘১১১১১১১১১১১১১’, ‘০০০০০০০০০০০০০’ এবং ‘৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯’-এর মতো সম্পূর্ণ ভুয়া আইএমইআই নম্বর দিয়ে লাখ লাখ ডিভাইস সচল থাকার তথ্য মিলেছে।
ক্লোন ও নকল মোবাইল ফোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে গত ১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এনইআইআর ব্যবস্থা চালু করে। চালুর পরপরই নেটওয়ার্কভিত্তিক বিশ্লেষণে বেরিয়ে আসে, গত এক দশকে একটি মাত্র ভুয়া আইএমইআই নম্বর ব্যবহার করেই প্রায় ৩ কোটি ৯১ লাখের বেশি মোবাইল সংযোগ সক্রিয় করা হয়েছে—যা জালিয়াতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।
তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে আপাতত এসব ফোন বন্ধ করা হচ্ছে না। পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট আইএমইআই নম্বরগুলোকে ‘গ্রে লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশে ব্যবহৃত নিম্নমানের ও নকল হ্যান্ডসেটগুলোর বেশিরভাগই কোনো ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষা, রেডিয়েশন বা এসএআর টেস্ট ছাড়াই বাজারে এসেছে। চারটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কেই এসব অনিবন্ধিত ফোনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই ভুয়া আইএমইআই শুধু স্মার্টফোনেই সীমাবদ্ধ নয়; সিম-চালিত আইওটি ডিভাইস, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন যন্ত্রেও একই নম্বর ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে অপরাধ শনাক্ত ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এই সংকট মোকাবিলায় সরকার বৈধভাবে আমদানিকৃত আইওটি ডিভাইসগুলোকে আলাদাভাবে ট্যাগ করার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে এনইআইআর সিস্টেমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, নকল ও ক্লোন ফোনের বাজার যে কতটা বিস্তৃত ও সংগঠিত, তা এতদিন ধারণার বাইরে ছিল। এনইআইআর চালুর পরই প্রথমবারের মতো এই জালিয়াতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
কী-ওয়ার্ডঃএনইআইআর,ভুয়া আইএমইআই,ক্লোন মোবাইল