০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, সোমবার, বিকাল ৪টায়, সত্যেন সেন চত্বরে (জাতীয় প্রেসক্লাবের বিপরীতে) নেত্রকোনা ট্র্যাজেডি দিবস স্মরণে সাংস্কৃতিক সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
২০০৫ সালের ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনা শহরের উদীচীর কার্যালয়ের সামনে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির বোমা হামলায় নিহত হয়েছিলেন উদীচী নেত্রকোনা জেলা সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক খাজা হায়দার হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুদীপ্তা পাল শেলী সহ আটজন। আহত হয়েছিলেন প্রায় অর্ধ শতাধিক সাংস্কৃতিক কর্মী ও নিরীহ সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশের লড়াই সংগ্রামের সামনের সারির সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ওপর নৃশংস সেই হামলায় নিহতদের স্মরণে প্রতি বছরের মতো এবারও দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করে উদীচী।
সমাবেশের শুরুতে অস্থায়ী শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা মহানগর সংসদ, জর্জিয়া শাখা ও ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন শাখা। এছাড়াও শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পন করে, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য, সিপিবি- ঢাকামহানগর দক্ষিণ, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন, রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।
এরপর উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান, রহমান মুফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ নূর, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য ও জর্জিয়া শাখার সভাপতি মোর্শেদুল হাকিম শুভ্র। এছাড়া আরও বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি- সিপিবি ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সমীর, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের সদস্য রঘু অভিজিৎ রায়।
বক্তাগণ তাদের বক্তৃতায় বলেন, জন্ম থেকে উদীচী দেশের মানুষের মুক্তির সকল লড়াই সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে লড়াই করে আসছে। ইতিহাসের প্রতিটি স্তরে স্তরে দেশের জন্য উদীচীর নেতা-কর্মীরা রক্ত দিয়েছে। ১৯৯৯ সালে যশোরে, ২০০৫ সালে নেত্রকোনায় বোমা হামলা চালিয়ে উদীচীর নেতা-কর্মীদের হত্যা করা হয়েছে। আর উদীচীর রক্তের উপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতাসীন শক্তি তাদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেছে বারবার। উদীচীর উপর হামলার সঠিক বিচার করার বদলে তারা তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কাজে উদীচী হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ব্যবহার করেছে। বক্তাগণ আরও বলেন, আমরা আশা করেছিলাম ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণমানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার মূল্য দিয়ে, এই দেশকে সঠিক ভাবে পরিচালনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নির্বাচন দিয়ে দেশকে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু বাস্তবে হলো ভিন্ন, এই সরকারও জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগকে ব্যার্থ করে দিয়ে দেশকে একটি মবের রাজ্যে পরিণত করেছে। যেখানে এই সরকারের দায়িত্ব ছিল সমাজের সকল বৈষম্য নির্মূল করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও রাষ্ট্র্য গড়ার পরিবেশ তৈরি করা, সেখানে এই সরকারের ব্যার্থতা ও দায়িত্বহীনতার জন্য দেশে আজকে সর্বস্তরে বৈষ্যম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে আজ আদিবাসী, নারী, বাউল, সূফী সাধক কেউ নিরাপদ নেই।
বক্তাগণ দাবি করেন, অনতিবিলম্বে নিরীহ মানুষের উপর অন্যায়-অত্যাচার, নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। সকল বিশৃঙ্খলা দূর করে, রাজনৈতিক ও সামাজিক দুর্বৃত্তদের দমন করে দেশে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। দেশে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দ্রুত এই সরকারকে বিদায় নিতে হবে।
আলোচনার মাঝে মাঝে উদীচীর শিল্পীকর্মীরা গান, আবৃত্তি ও নাচ পরিবেশন করেন।