শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ-ইউনিয়ন সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি

  • মিজানুর রহমান
  • ২০২৫-১১-১০ ১৯:৫৯:২৭

দৌলতপুর(কুষ্টিয়া)প্রতিনিধিঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১১ নং আদাবাড়ীয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে দেড় বছর ধরে দুঃস্থ, অসহায়, প্রতিবন্ধী ও বিধবাদের ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে ভাতা অন্য আত্মীয়দের নামে উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় শারীরিক প্রতিবন্ধী সুলতান হোসেন জানান, দেড় বছর আগে তার নিবন্ধিত নম্বরে একবার অর্থ পেয়েছিলেন; পরবর্তী সময়ে ভাতার অর্থ না পেয়ে  তিনি কয়েকবার আমজাদ মেম্বরের কাছে গেলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদায় করা হয়েছে। অক্টোবর মাসে টাকা না পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে নির্দেশমতে উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের নিকট গেলে তাকে জানানো হয় যে টাকা অন্য নম্বরে গিয়েছে; সেই নম্বরটি দেখতেও পান সুলতান।
বিএনপির ১১ নং আদাবাড়ীয়া ইউনিয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম জানান, বহু উপকারভোগী অভিযোগ নিয়ে তার কাছে এসেছেন। সমাজসেবা অফিসারের দেওয়া নম্বরে কল করলে ফোন রিসিভ করেছেন বজলুর রহমান-যিনি আমজাদ মেম্বরের শশুর। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগীরা শহিদুলের পার্টি অফিসে ভিড় জমায়। স্থানীয়রা বলছেন, অন্তত ৪০–৫০ জন ভাতাভোগীর টাকা অনুপস্থিত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক বিধবা সুরতন নেছা জানান, তিনি দেড় বছর আগে একবার বিধবা ভাতা পেয়েছিলেন; তা থেকেও তাদের দাবি অনুযায়ী টাকা মেম্বর নিয়েছেন। তিনি বলছেন-বিধবা ভাতা এবং সরকারি বাড়ি দেয়ার নামে মেম্বর তাঁকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছেন কিন্তু এখন ভাতা পান না ও বাড়ি পাননি।
মাসিকুল ইসলাম জানান, তার শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে সুফিয়ানের ভাতা চালু হওয়ার ছয় মাস পর পাওয়া শুরু হয়; এরপর আর ৯ মাসের টাকা পাননি। অভিযোগ করলে আমজাদ মেম্বর রাতের বেলা বাড়িতে গিয়ে বড় ধরনের চাপের পরে ৭ হাজার ৭শত টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে মাসিকুল দাবি করেছেন।
অন্যদিকে প্রসূতি ভাতার জন্য আমজাদ মেম্বর ছাত্তারের স্ত্রীর ভাতার কার্ড করার নাম করে দুই বছর আগে ৬ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে; ছাত্তার এখনও টাকা ফেরত পাননি ও কার্ড করেও দেয়নি মেম্বর।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ মতে, শুধুমাত্র ভাতার টাকা নয়-বিভিন্ন ভাতা ও সরকারি সুবিধার নাম করে গরিব ও অসহায়দের প্রতারণা করে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এলাকার নানা গুঞ্জনের কারণে অনুমানিতভাবে ৪০–৫০ জনের টাকার অনুপস্থিতি ঘটেছে।
অভিযোগ নিয়ে যোগাযোগ করলে ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বর আমজাদ হোসেন অভিযোগের বাস্তবতা স্বীকার করে বলেন, “এধরনের প্রায় ১০ জনের মতো ভাতাভোগীর টাকাসংক্রান্ত অনিয়ম হয়েছে; তা আমার ভুল।”
১১ নং আদাবাড়ীয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল বাকি বলেন, গরীবের ভাতার টাকা মেরে খাওয়ার সুযোগ নেই; তথ্য-প্রমাণ পেলে দোষী হলে শাস্তি হবে।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো: জহিরুল ইসলামকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হাই সিদ্দিকী অভিযোগ নিশ্চিত করে বলেন, বিভিন্ন ভাতাভোগীদের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে আত্মীয়দের নম্বর দেয়া হয়েছে এবং ভাতার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে; তদন্ত করে সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 


এ জাতীয় আরো খবর