সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে কেরানীগঞ্জ উপজেলার তেঘুরিয়া ইউনিয়নে অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে তুলনামূলকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রকৃত অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের হাতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি তেঘুরিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঋষিপাড়া এলাকায় উপজেলা সমাজসেবা বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শিবলীজ্জামান এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম পর্যায়ে প্রাথমিক তালিকার ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য উপকারভোগীদের নির্বাচন করা হলেও পরবর্তীতে তাদের নাম-ঠিকানা, আর্থিক অবস্থা ও সামাজিক বাস্তবতা পুনরায় যাচাই করা হয়। এই যাচাই-বাছাই শেষে যাদের আর্থিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছল বলে প্রতীয়মান হয়েছে, তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শিবলীজ্জামান বলেন, "এটি একটি পাইলট প্রকল্প। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের হাতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। এজন্য প্রতিটি আবেদন নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। বাঘইনগর এলাকায় রাখী বর্মণ, সাথী বর্মণসহ প্রায় ১৩ থেকে ১৫ জনকে তুলনামূলকভাবে সচ্ছল হওয়ায় তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "যদি কোনো প্রকৃত উপকারভোগী ভুলবশত বাদ পড়ে থাকেন, তবে যাচাই-বাছাই শেষে তাকে তালিকাভুক্ত করা হবে। একইভাবে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সরকারের এই উদ্যোগ প্রকৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। দীর্ঘদিন ধরে যারা সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য হয়েও নানা কারণে বঞ্চিত ছিলেন, তাদের কাছে এবার সেই সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জলিল মিয়া বলেন, "যারা ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন, তারা সবাই এই সহায়তা পাওয়ার যোগ্য। সরকারি কর্মকর্তারা নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত দরিদ্রদের কাছেই কার্ড পৌঁছে দিয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বেড়েছে।"
এলাকাবাসী মনে করছেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে প্রকৃত দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য এলাকাতেও অনুসরণযোগ্য একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সরকারি সহায়তা যেন কোনোভাবেই অযোগ্য ব্যক্তির হাতে না গিয়ে প্রকৃত অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়—এমন প্রত্যাশাই এখন কেরানীগঞ্জের সাধারণ মানুষের।