বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬

বে বী সা উ

  • জীবনের কত যে রূপ, কত যে রং
  • ২০২৫-১০-২৯ ১৯:২৫:০৯

জীবন তো! কত যে রূপ, কত যে রং তার! দেখি, ভাবি আর কখনো তিতিবিরক্ত হয়ে, কখনো বা মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি শুধু। দেখি, মেঘের রং পাল্টাচ্ছে। নদীগুলো মরে যাচ্ছে। প্রিয় জঙ্গলের ঘন অন্ধকার, ভূতের ভয়, ডাকাতের রহস্য-রোমাঞ্চ হারিয়ে হয়ে যাচ্ছে ধূ ধূ খেলার মাঠ। এবং কয়েক বছর পর কোনও না কোনও বড় ফ্যাক্টরি। কিন্তু বেকারত্ব শেষ হয় না। মলিনতা যায় না মন থেকে। বরং আরও আরও লোভ এবং জিঘাংসা। 
জীবন এরকমই হয়। উত্থান, পতন। পতন, উত্থান। আমিও তো আর কম পাল্টাই নি!
 এই লেখা যখন লিখছি, তার আর কয়েক মিনিট পর আমার নতুন বছর। আমার জন্মদিন। কার্তিক মাসের এক শুক্ল তিথিতে এই পৃথিবীতে অজস্র কীটপতঙ্গ, অপরূপ প্রকৃতি, অসংখ্য পশু-পাখি এবং বিপুল সংখ্যক জনসংখ্যার মধ্যে আমিও ঢুকে পড়েছিলাম। এটাই নিয়ম, এটাই বিধি আমার কাছে। ঈশ্বরবিশ্বাসী আমি কখনোই নই। অবশ্য এটার জন্য আমার বাড়িই দায়ি। তাঁরাই আমার মনে সর্বশক্তিমান রূপে চিনিয়েছেন মানুষকে। আমার বাবা আমাকে বলেন, তুমিই তোমার জীবনের বিধাতা, ভাগ্য এবং ঈশ্বর। আমিও আজ এটাই বিশ্বাস করি-আমি হিন্দু, মুসলিম, খৃষ্টান ইত্যাদি ইত্যাদি  কিছুই নই! মানুষ ছাড়া আমার অন্য কোনও জাত নেই। আমি আজকাল জেন্ডারেও বিশ্বাস করি না। যদিও আমি মেয়ে বলে আমার বন্ধুরা আড়ালে অনেক কথা বলেন, শোনান। কানে আসে। কিন্তু আমি আজকাল সে সবে পাত্তা দিই না। আমি বিরোধে বিশ্বাসী নই বরং গঠনমূলক তর্কে বিশ্বাসী। আমি পেছনের ছুরি মারার চেয়ে সামনের বন্দুকের গুলিকে বেশি বিশ্বাস করি ( এই বন্দুক এবং ছুরি দু'টোই রূপক অর্থে, বুঝবেন নিশ্চয়ই।
কিন্তু আজকাল কোনও একটা সত্যকে বিশ্বাস করি। সেটা আমার মা-বাবার ইচ্ছে হতে পারে কিংবা আমার নিজের ইচ্ছেও। আমি পৃথিবীতে আসতে চেয়েছি, তাই হয়তো এসেছি-এমন একটা যুক্তিছাড়া বিশ্বাস আজকাল আমার মধ্যে কাজ করে। এবং ভালো লাগে। তখন দুঃখ-সুখ, কষ্ট-আনন্দ সবটাই বেশ মনোরম হয়ে ওঠে। 
অক্টোবর আমার কাছে বরাবরই বড় আনন্দের মাস। এই মাসটিতেই আমি আমার জীবনে একেকটি চাকরি পেয়েছি। ছেড়েছি। নিজেকে খোলা আকাশের দিকে দাঁড় করিয়ে পাখি হয়ে উড়েছি আবার মুখ থুবড়ে পড়েছিও। আমার প্রথম কবিতার বইটিও এই মাসেই বেরিয়েছিল।  অক্টোবরে আমার কখনো শরীর খারাপ হয় নি। অক্টোবরে আমি প্রথম কবিতাটিও লিখেছিলাম। আমি বেশ কিছু ভালো কাজ করেছি-সমাজের এবং নিজের। যাইহোক, নিজের ঢাক না পিটিয়ে একটা পরিপূর্ণ সম্মানের জীবন পেয়েছি (যাঁরা ক্রমাগত নিন্দামন্দ করেন, গালাগাল দেন তাঁরা মুচকি হাসুন????) এবং আনন্দের সঙ্গে সেই জীবনকে উপভোগ করছি এটাই বড় কথা। 
তবে, এ বছরের অক্টোবর আমার কাছে ছিল সংঘর্ষের। টানাপোড়েনের। চারপাশ থেকে ছুটে আসা ধোঁকা এবং ধোঁকেবাজের লেলিহান শিখা অক্টোবরের স্নিগ্ধতাকে ছিন্নভিন্ন করেছে। কাটাছেঁড়া করেছে। আর দাঁত বের করে হো হো করে হেসেছে। কিন্তু তারপর নেমেছে মুষলধারে বৃষ্টি। মেঘে এবং মনে। ফলে জন্মদিন আসার আগেই ধুয়েমুছে গেছে সব। এমন সব ঘটনা সবার জীবনে ঘটে, নতুন কিছু নয়। তাই ঘটেছে। আমি আক্ষেপ করি নি। বরং অক্টোবরের কাছে আমি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি, ধোঁকা এবং ধোঁকবাজদের সামনে নিয়ে আসার জন্য।
কিছু স্বপ্ন আছে, আরেকটা জন্মদিন আসার আগে দেখি, সেসব পূরণ করতে পারি কী না! একটা স্কুল খোলার ইচ্ছে আজকাল আমাকে ঘুমুতে দেয় না ঠিকঠাক। একটা নতুন ভাষা শেখার ইচ্ছা এবং বেশ কিছু ভালো কবিতা লিখতে চাই! জীবন চাইলেই দিতে পারে! কিন্তু দেবে কী?
জন্মদিন এলে আমি আমার জীবনের সেই হিসেবের খাতাটা খুলে বসি। আজও বসেছিলাম। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। গাছগুলো দুলছে। আর ল্যাম্পপোস্টের আলোয় দীর্ঘ হয়ে উঠছে ছায়া। দীর্ঘ ছায়া দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। দুলতে দুলতে সেই দীর্ঘ ছায়ার গাছেরা সবাই যেন  আজ জীবনের মানে বোঝাতে বসেছে। অসংখ্য পাতার ফাঁক দিয়ে ঝরে পড়া জল এবং ইলেকট্রিক আলো কেমন যেন বুঝিয়ে দিচ্ছে জীবনের অর্থ! ভালো লাগছে!  তার সঙ্গে টুংটাং করে ভেসে আসছে আপনাদের পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা! জীবন তো এরকম তাই না! তাকিয়ে থাকা শুধু...


এ জাতীয় আরো খবর