প্রেমকে কি আমরা সত্যিই কোনো বাঁধনে আটকে রাখতে পারি? সমাজ যতই নিয়মকানুনের বেড়া তৈরি করুক, মন কি কখনো বয়সের অঙ্ক কষে প্রেমে পড়ে? ভালোবাসা আসলে ঝড়ের মতো, হঠাৎ আসে, ছিঁড়ে দেয় সব ক্যালেন্ডারের তারিখ, সব হিসেব-নিকেশ।
আমরা জন্ম থেকেই শিখে এসেছি, প্রেম মানে কৈশোর বা যৌবনের আবেগ। বিবাহ মানেই একজীবনের শপথ, তার বাইরের প্রেম মানেই অপরাধ। কিন্তু একবার কি ভেবেছেন, এই অপরাধবোধই আসল বিপদ? ভালোবাসা তো অপরাধ নয়, ভালোবাসা হলো নতুন করে বাঁচার রসদ।
একটি সংসার যখন দিনের পর দিন একঘেয়ে, শুষ্ক মরুভূমির মতো নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তখন হঠাৎ এক অচেনা স্রোত এসে জীবনে বয়ে নিয়ে আসে সবুজ মরুদ্যান। সেই স্রোতকে আমরা নাম দিই “দ্বিতীয় প্রেম”। অথচ সমাজ তার চোখ রাঙিয়ে বলে, এটা ভুল!” ভুল কেন? যদি সেই প্রেম মানুষকে জীবনে নতুন দায়িত্ববোধ শেখায়, তাকে আবার সঙ্গীর কাছে টেনে নিয়ে যায়, তবে সেটাকে কেন আমরা নিষিদ্ধ বলে চিহ্নিত করব?
প্রেম মানেই কি দখল? নয় তো! প্রেম মানে মুক্তি। যার প্রতি টান জন্মায়, তাকে মুক্ত আকাশে উড়তে দিতে পারাটাই সত্যিকারের ভালোবাসা। পাখিকে যদি খাঁচায় আটকে রাখেন, সে মরবে। অথচ তাকে যদি ডানা মেলতে দেন, সে ঠিকই সন্ধ্যা হলে নীড়ে ফিরে আসবে।
ইতিহাসের দিকে তাকান। একসময় বাল্যবিবাহ ছিল নিয়ম, আজ তা অপরাধ। একসময় বিধবার বিয়ে মানেই সমাজের তীব্র আপত্তি, আজ তা স্বাভাবিক। সতীদাহ একসময় “পুণ্যকর্ম” ছিল, আজ আমরা তাকে নৃশংসতা বলি। সমাজ বদলেছে, কারণ সময় বদলেছে। তাহলে প্রেমের ক্ষেত্রেও একদিন সমাজ স্বীকার করবে, মানুষের ভালো থাকা, মনের খুশি, সেটাই সবচেয়ে বড় সত্য।
আসলে মনের বয়স বাড়ে না। আমরা কৃত্রিমভাবে নাম দিই, যৌবন, প্রৌঢ়ত্ব, বার্ধক্য। অথচ এক সত্তর বছরের মানুষও হঠাৎ প্রেমে পড়ে কিশোরের মতো অস্থির হতে পারেন। আর এই অস্থিরতাই তো জীবনের প্রমাণ।
তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, প্রেম করার নির্দিষ্ট সময় আছে কি? উত্তর হলো, না। প্রেম কোনো ক্যালেন্ডারের পাতায় বাঁধা নয়। প্রেম তখনই আসে, যখন মন তা চায়। সমাজ তাকে বাঁধতে পারে না, থামাতেও পারে না।
একদিন আসবেই, যখন আমরা বুঝব ! প্রেম হলো জীবনের শ্বাস। ভালোবাসার মধ্যেই লুকিয়ে আছে মানুষের ভালো থাকা, পরিবারের ভালো থাকা, সমাজের ভালো থাকা। আর ভালো থাকা ছাড়া কি মানুষ সত্যিই বাঁচতে পারে?