বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনী খাতুনের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

  • এস এম মহিদার রহমান, সাতক্ষীরা
  • ২০২৫-০৯-১৩ ১৮:৩৪:০০

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনি খাতুন বদলি হয়েছে। বদলির ‌রাত পর্যন্ত তার এলাকায় ব্যাপক সুনাম ও জনপ্রিয়তা ছিল। অত্যন্ত কর্মদক্ষ জনবান্ধব নির্বাহী অফিসার হিসেবে জনগণের কাছে আস্থা অর্জন করেছিলেন। আজ তাকে বিভাগীয় কমিশনার শ্যামনগর উপজেলা থেকে বদলি করে যশোর জেলার ঝিকরগাছায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনি খাতুনের বদলির ‌সাথে সাথে তার নানামুখী দুর্নীতি অপকর্ম ক্ষমতার অপব্যবহার ঘুষ ‌বাণিজ্যসহ নানা অপকর্ম র চিত্র মুহূর্তের ভিতর বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনি খাতুন ২৪-২৫ অর্থবছরে আকাশ নীলা ট্যুরিজম সেন্টার সংস্কারের জন্য ৩২লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে এক টাকার ও কাজ করেনি বলে বুড়ি গোয়ালিনী ইউনিয়নের জন প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন। বর্তমান আকাশ নীলার চলাচলের পাড়াতন গুলো খসে খসে পড়ে যাচ্ছে টাকা নাকি রনি খাতুনের ভেনাটি ব্যাগে। এছাড়া ২৪-২৫ অর্থবছরে টিয়ার ‌কাবিখার প্রকল্পের টাকা প্রকল্পের বিল প্রকল্পের সভাপতিদের হাতে না দিয়ে উপজেলা প্রকল্প অফিসের নিয়োজিত রুহুল আমিন খোকাকে দিয়ে সকল টাকা উত্তোলন করে অফিসে নিয়ে এসে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে অর্ধেক টাকা প্রকল্প চেয়ারম্যানদের দেওয়া হয়েছে আর অর্ধেক টাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার পকেটে।। প্রকল্প চেয়ারম্যানদের বলেছিলেন এই টাকায় আপনারা অর্ধেক কাজ করবেন আর অর্ধেক আপনারা নিবেন নির্বাহী অফিসার রনি খাতুন প্রকল্প চেয়ারম্যানদের বলেছিলেন শুধু আমি কাজের সাইডে যাব প্রকল্পের স্টাটিং পয়েন্টে কাজটুকু ফটো সেশন ‌‌করে দিবেন এভাবে হাতিয়ে নিয়েছে ৪৭লক্ষ টাকা দাবি উপজেলার সকল জনপ্রতিনিধিদের। এছাড়া খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি ও এম এস ডিলারদের কাছ থেকে খাদ্য অফিসের মাধ্যমে হাতিয়ে ‌নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এই অভিযোগ খোদ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্র জাহিদুর রহমানের। এছাড়া শ্যামনগর উপজেলা রাজস্ব খাতের টাকা ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনি খাতুন হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায়৭০লক্ষ টাকা এই অভিযোগ উপজেলা সমন্বয় কমিটির ১৮ জন সদস্যর। তাছাড়া একজন অন্তত ২০আঁকাউন আছে প্রত্যাশ একাউন্ট থেকে ভুয়া প্রকল্প ভুয়া বিল দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা লুটপাট করা হয়েছে।এছাড়া ২৪-২৫ অর্থবছরে হতদরিদ্রদের জন্য শ্যামনগর উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ‌দপ্তরে এক হাজার পাঁচশত প্লাস্টিক ড্রাম বরাদ্দ ছিল। এই প্লাস্টিকের দাম বিতরণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনি খাতুন হতদরিদ্রদের গণ আবেদন করতে বলেন, হতদরিদ্ররা সে মোতাবে ক সরকারিভাবে প্লাস্টিক ড্রামপাবার জন্যউপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় বরাবর গণ আবেদন করেন। এই গন আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রতি ইউনিয়নে যদি বরাদ্দ থাকে১২৫ টি গণ আবেদনের পরিমাণ ছিল ৩৫০ থেকে ৪০০ পর্যন্ত প্রতি ইউনিয়নে তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রতিটি ইউনিয়নে উপজেলা থেকে ভিন্ন ভিন্ন ‌‌অফিসারদের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়নে তালিকা পাঠিয়ে দিয়ে প্রত্যেক উপকার ভোগের কাছ থেকে পাঁচ হাজার করে টাকা নিয়ে এই প্লাস্টিক ড্রাম বিতরণের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। অভিযোগ খোদ ‌জনপ্রতিনিধিদের ও তালিকা থেকে বঞ্চিত ব্যক্তিদের। বিভিন্ন অভিজ্ঞ মহল বলতে চান উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনি খাতুন বাইরে সামাজিক কাজে খুব জনপ্রিয়তা দেখিয়েছেন ভিতরে ভিতরে উপজেলার সব ফান্ডের টাকা তার ভেনাটিব্যাকে ঢুকিয়েছেন। ভ্রাম্যমান আদালতের ভয় দেখিয়ে অবৈধ ডেম্পার মালিকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন অবৈধ ইটভাটা থেকে এই অভিযোগ ইটভাটা মালিক খোদ বকুলের। নদী থেকে বা কোন স্থল ভূমি জমি থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের ক্ষেত্রে নামমাত্রা কয়েকজনকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করেছেন বাকিদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আব্দুর রহমান বাবু ঠিকাদার ফিরোজ ‌সহ অন্যদের মারফতে নিজে হাতিয়ে ‌নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরে সেখান থেকে ঠিকাদারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে রনি ‌খাতুন হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা এ অভিযোগ খোদপানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদারদের। এ ব্যাপারে বিদায়ী ইউ এন ও রনি খাতুন এর সাথে এই প্রতিবেদকের অভিযোগগুলোর বিষয় নিয়ে কথা হলে তিনি বলেছেন এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়া ট আমি একটি চক্রান্তর শিকার তাই মানুষ আমার চলে যাওয়ার সময় বিভিন্ন মন্তব্য করছে আমি এই অপরাধ জানার জন্য এই উপজেলার মানুষের জন্য কি করেছি দুইদিন পরে মনে পড়বে। এছাড়া আরো শতাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 


এ জাতীয় আরো খবর