চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক গৌড়ের ছোট সোনামসজিদের অদূরে প্রাচীন দীঘির সামনে অবস্থিত তোহাখানা মসজিদ সংলগ্ন হযরত শাহ নেয়ামতুল্লাহ (র.) এর মাজার ঘিরে বার্ষিক ইছালে সওয়াব (ওরস) অনুষ্ঠিত হয়েছে। হযরত শাহ নেয়ামতুল্লাহ (র.) ছিলেন উপমহাদেশে অন্যতম ইসলাম ধর্ম প্রচারক। প্রতিবছরের ন্যয় এবছরও ভাদ্র মাসের শেষ শুক্রবার(১ সেপ্টেম্বর) এই ওরস অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার আশেকান,ভক্ত ও সাধারণ মুসল্লীরা এই ওরসে যোগ দেন। ওরসের মূল অনুষ্ঠান ছিল বাদ জুম্মা আখেরী মোনাজাত। বিশেষ এই দোয়ায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামণা করা হয়। ওরস ঘিরে সোনামসজিদ স্থলবন্দর মহাসড়ক ও ঐতিহাসিক স্থান সমূহ সংলগ্ন সড়কগুলির দুপাশে বসেছে গ্রামীণ মেলা। মেলায় রয়েছে খাবার,খেলনা, মনোহারি ও রকমারি সহ বিভিন্ন দোকানপাট।
মাযার কমিটি সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আলী আফজাল আজিজী বলেন, মাযার কমিটির সভাপতি পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসক। ইছালে সওয়াবে শরিয়ত বিরোধি কোন আচার পালিত হয় না। নামাজ,জিকির, ধর্মীয় আলোচনা ও ইবাদতে মশগুল থাকেন মুসল্লীরা। গত বৃহস্পতিবার(১১ সেপ্টেম্বর) থেকেই নারী ও পুরুষ সহ মুসল্লীরা সোনামসজিদ সহ মাযার এলাকায় আসতে থাকেন। রাতে অনেকেই ইবাদত করেন। ওরসে আগতদের থাকা ও খাবার ব্যবস্থা করা হয় বিভিন্ন উদ্যেগে। এবার আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন দুদক কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আলি আকবর আজিজী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ফয়সাল রায়হান, শিবগঞ্জের ইউএনও আজাহার আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসিন আরাফাত,শিবগঞ্জের এসি ল্যান্ড তৌফিক আজিজ, শিবগঞ্জ থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া সহ সরকারি কর্মকর্তাসহ বহু মানুষ। উপস্থিত ছিলেন বিজিবি সদস্যরাও। তবে বৃষ্টির কারণে ওরসের কার্যক্রমে কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হয়।
শিবগঞ্জের ওসি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ওরসে অন্তত: ২০ হাজার মানুষের সমাগম হয়। দুদিন থেকে পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করে ওরস ঘিরে। নির্বিঘেœ ওরস সমাপ্ত হয়েছে বলেও জানান ওসি। ওরস ঘিওে বসা মেলার কারণে সৃষ্ট যানজট পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করছে বলেও জানান ওসি।