ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত হামলা ও অবরোধে মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। খাবারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করায় দিন দিন বাড়ছে ক্ষুধাজনিত মৃত্যু। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার ফিলিস্তিনি ক্ষুধা ও অপুষ্টির কারণে প্রাণ হারিয়েছেন। এতে ক্ষুধা-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৯ জনে, যার মধ্যে ১০৬ জন শিশু।
কাতারভিত্তিক আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, বোমাবর্ষণ, মৌলিক সেবার পতন এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে কঠোর বাধা গাজার লাখো মানুষের জন্য ভয়াবহ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অন্তত ৪০ হাজার শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে এবং দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এক বছরের কম বয়সি প্রায় ৪০ হাজার শিশু চরম অপুষ্টিতে আক্রান্ত। পাঁচ বছরের কম বয়সি আড়াই লাখ শিশু খাদ্য সংকটে আছে এবং ১৮ বছরের নিচে প্রায় ১২ লাখ শিশু তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার শিকার। গত বৃহস্পতিবার ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৩৫ ফিলিস্তিনি নিহত হন, যার মধ্যে ১৩ জন সহায়তা সংগ্রহের পথে প্রাণ হারান।
অন্যদিকে, পশ্চিম তীরে নতুন করে ৩ হাজারের বেশি অবৈধ বসতি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘গ্রেটার ইসরাইল’ ধারণার প্রতি গভীর সমর্থন ব্যক্ত করে এটিকে নিজের ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক মিশনের অংশ বলে উল্লেখ করেন। তার এই মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান, ইয়েমেনসহ আরব লীগভুক্ত দেশগুলো।
কীওয়ার্ডস:
গাজা ক্ষুধা সংকট, ইসরাইলি হামলা, ফিলিস্তিনি শিশু মৃত্যু, গাজা মানবিক বিপর্যয়, গ্রেটার ইসরাইল