ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে পাকিস্তানের সাফল্যকে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দিল যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বৈঠক শেষে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তান শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও সন্ত্রাস দমনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাফর এক্সপ্রেসে হামলা ও খুজদারের স্কুলে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রশংসা আন্তর্জাতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ, বিশেষ করে ভারত–পাক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।
পহেলগাঁও হামলার পর ভারত দাবি করে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করেছে। দিল্লি বরাবরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে, তবে ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে বলছে, সন্ত্রাস দমনে তারা ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে।
এই সময়েই যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রশংসা ভারতের জন্য কূটনৈতিক চাপে পরিণত হতে পারে। সাম্প্রতিক বাণিজ্য ও শুল্ক ইস্যুতেও দিল্লি–ওয়াশিংটনের সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে খনিজ তেল চুক্তি করেছে।
এদিকে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের পরমাণু সংক্রান্ত মন্তব্যও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সফরে তিনি বলেন, পাকিস্তান একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ এবং হুমকির মুখে পড়লে বিশ্বকে সঙ্গে নিয়ে ধ্বংসের পথে যাবে। ভারত এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি ও এর সহযোগী মজিদ ব্রিগেডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ফলে পাকিস্তানের প্রশংসা কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রশ্ন রয়ে গেছে—ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা কি নতুন পরীক্ষার মুখে? নাকি পাকিস্তান এই সুযোগে বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান পুনর্গঠন করছে? সময়ই এর উত্তর দেবে, তবে পরিবর্তনের ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট।
কীওয়ার্ডস: পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, ভারত-পাক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন