মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা,মহানন্দাসহ প্রধান নদীগুলোর পানি বৃদ্ধিতে,নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৫-০৮-১২ ২২:২০:৪৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা,মহানন্দা,পূণর্ভবা সহ প্রধান নদীগুলোর পানিবৃদ্ধি অব্যহত রয়েছে। এতে পদ্মা নদী তীরবর্তী ১২টি ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে কমে এসেছে পানি বৃদ্ধির হার। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র বলছে, আগামী ২/১ দিনের মধ্যে পানি স্থির হতে পারে। অবস্থা  আরও খারাপ না হবার আশা করছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার (১২ আগষ্ট) সন্ধ্যা ৬টায় পদ্মা বিপৎসীমার মাত্র ৩৪ সে.মি নীচ দিয়ে ২১.৭১ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেয়া তথ্যনাযায়ী, চলতি মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মত পানিবৃদ্ধির কারণে  বাড়ির চারদিকে ও  ঘরের ভেতরে পানি প্রবেশ করে পানিবন্দি হয়েছেন সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী হাজার হাজার পরিবার। অনেকে মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন।
সদরের নারায়নপুর,আলাতুলী,ইসলামপুর,দেবীনগর,শাজাহানপুর,চরবাগডাঙ্গা,সুন্দরপুর অর্থাৎ ৭টি এবং শিবগঞ্জ উপজেলার ৫টি অর্থাৎ দূর্লভপুর,পাঁকা,মনাকষা,উজিরপুর ও ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চলে পদ্মার পানি প্রবেশ করে নিমজ্জিত,অর্ধনিমজ্জিত ও আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে হাজার হাজার বিঘা ফসলী জমি ও বাগান। পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে রয়েছে প্রথমিক,মাধ্যমিক, কিন্ডারগার্টেন বিদ্যলয়,বিভিন্ন ধরণের মাদ্রাসা ও কলেজ। গ্রামীন সড়কে পানি  উঠে চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে ভোগান্তি।গবাদিপশুরও দূরাবস্থা।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শনের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন,দুই উপজেলায় পদ্মার পানিবৃদ্ধিজনিত কারণে অন্তত:সাড়ে ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় জীবন যাপন করছেন।  পানিবন্দী ও পানি ওঠায় পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত: ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। কিছু প্রতিষ্ঠানের চারদিকে পানি থাকলেও পাঠদান বন্ধ হয় নি। আক্রান্ত সকল ইউনিয়নে মানুষ পানিবন্দি হয় নি। তবে ফসল নিমজ্জিত হয়েছে।
পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী এস,এম,আহসান হাবীব বলেন,উজানে ভারত থেকে ধেয়ে আসা পানি ও দেশের বৃষ্টিপাতের কারণে পানি বাড়ছে। তবে আশা করা হচ্ছে পনি আর তেমন বাড়বে না। স্থির হয়ে কমতে শুরু করবে। এরপরও সার্বক্ষনিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মহানন্দা বিপৎসীমার ৮৭ সে.মি নীচে ১৯.৬৮ মিটার  ও পূণর্ভবা বিপৎসীমার ১.৭৫ মিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অর্থাৎ সকল বড় নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নীচেই রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এখনও বন্যার পূর্বাভাস দেয় নি।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, দুই উপজেলার প্রায় ৪ হাজার বিঘা ফসলী জমি পদ্মার পানি বাড়ায় আক্রান্ত হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদ্প্তরের  উপ-পরিচালক ড. ইয়াসিন আলী বলেন,আক্রান্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান,ভূট্টা,সব্জি,হলুদ,কলা ইত্যাদি।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুরুল ইসলাম বলেন, সকল ইউনিয়নের সকল অঞ্চলের সার্বিক তথ্য পাওয়া যায় নি। নারায়নপুর ও আলাতুলী ইউনিয়নে এক হাজার পরিবার পানিবন্দি। কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় পাঠদান বন্ধ। বুধবার(১৩ আগস্ট) থেকে ত্রাণ বিতরণ শুরু হবে।  ফসলি জমিতে পানি ওঠায় কৃষি বিভাগের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আজাহার আলী বলেন, অন্তত: সাড়ে ৭ হাজার পরিবার পানিবন্দি। অন্তত: ২৩  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ । ফসলি জমি তলিয়ে গেছে অন্তত: ৩ হাজার বিঘা জমির। পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ দূর্লভপুর ও পাঁকা ইউনিয়নের। তবে পানি আর বেশি না বাড়ার আভাস পাওয়া গেছে। ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। এখনও কোন আশ্রয় কেন্দ্র চালু করতে হয় নি।


এ জাতীয় আরো খবর