চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
শ্রমিক মারধর ও বাস ভাংচুরের জেরে দু’দিন যাবৎ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী রুটে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী সাধারণ। জরুরী প্রয়োজনে তাঁদের অটোরিক্সা বা ছোট যানবাহনে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শেষ সীমানা শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরের রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বালিয়াঘাট্টা থেকে রাজশাহী পর্যন্ত রাজশাহীর মালিকানাধীন লোকাল বাস চলাচল করছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী হয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন রুটের বিআরটিসি এবং দুরপাল্লার কোচ চলাচল করছে। সমস্যা সমাধানে মঙ্গলবার(২৯ জুলাই) সকাল ১১টায় রাজশাহী বাস মলিক গ্রæপ কার্যালয়ে দু’জেলার বাস মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের বৈঠক হবার কথা রয়েছে।
দু’জেলার বাস মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ সূত্রে জানা গেছে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার(২৬) জুলাই বিকালে বিভাগীয় শহর রজশাহীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্তত: একজন বাস শ্রমিককে মারধর করে আহত করে রাজশাহীর শ্রমিকরা। এরপরই চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চলাচলকারী চাঁপাইনবাবগঞ্জের মালিকানাধীন বিরতিহীন গেটলক ও মহানন্দা এবং লোকালসহ সকল ধরণের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের মালিক-শ্রমিকরা। তবে চালু থাকে রাজশাহীর মালিকানাধীন বাস চলাচল। কিন্তু ওইদিন রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা বাসস্ট্যান্ডে রাজশাহীর কয়েকটি বাসের কাঁচ ভাংচুর করে শ্রমিকরা। ফলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী রুটে সরাসরি বসা চলাচল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাস মালিক গ্রæপ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান শামীম বলেন, শনিবার বিকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে যাত্রী ওঠা ও বাসের শিডিউল নিয়ে সমস্যার সূত্রপাত। এর জেরে রাজশাহীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শ্রমিকদের মারধর করা হয়। ফলে বাস চলাচল বন্ধ হয়। এরপর গত রোববার (২৭ জুলাই) থেকে রাজশাহীর মালিক-শ্রমিকরা রাজশাহীর বালিয়াঘাট্টা থেকে বাস চালাচ্ছে। ঘটনার পর সমাধানে সোমবার (২৮ জুলাই) বৈঠকের প্রস্তাব দেয়া হলেও রাজশাহী পক্ষ রাজী হয় নি। এখন মঙ্গলবার আলোচনা বৈঠক হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন (জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী ও কভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন) সভাপতি সাইদুর রহমান অভিযোগ করেন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চলাচলকারী প্রায় সকল রুটের বাসকে রাজশাহীর উপর দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে মাঝে মাঝেই রাজশাহীতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। তিনি আরও বলেন, ২টি বাস ভাংচুরের সাথে শ্রমিকরা নয় বরং আহত শ্রমিকের স্বজনরা জড়িত ছিল।
রাজশাহী বাস মালিক গ্রæপ সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, শনিবার রাজশাহীতে ঘটনার পর বিষয়টি তাৎক্ষনিক মীমাংসা করে দেয়া হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শ্রমিককে চিকিৎসাও দেয়া হয়। তবু তারা রাজশাহীর ৩টি বাসের কাঁচ ভাঙ্গে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শ্রমিকদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।