বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬

শেখ হাসিনার চালকদের প্লট বরাদ্দ: রাজউকে দুর্নীতির অনুসন্ধানে নতুন চমক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৭-২৪ ১৯:৩৭:২৭

রাজধানীর বহুল আলোচিত ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের গাড়িচালকদের জন্যও প্লট বরাদ্দের চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রাজউকে বিশেষ অভিযানে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে দুদক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
রাজউকের বিশেষ কোটায় প্লট পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছেন শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত গাড়িচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সচিব ও ভিআইপিদের ড্রাইভাররা। এতদিন পর্যন্ত এই বরাদ্দপ্রক্রিয়া অজানাই ছিল জনসাধারণের কাছে।
দুদকের তদন্তে জানা যায়, ১৫ জন গাড়িচালককে "অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি" কোটায় প্লট দেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন: সাইফুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম লিটন, রাজন মাতবর, মাহবুব হোসেন, শাহীন, মতিউর রহমান, নুর হোসেন ব্যাপারী, বোরহান উদ্দিন, বিললা হোসেন, মিজানুর রহমান, বাচ্চু হাওলাদার, নুরুল আলম এবং নুরুন্নবী।
তদন্তে উঠে এসেছে, দু’জন ড্রাইভারকে তিন কাঠা করে এবং আরও তিনজনকে পাঁচ কাঠা করে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানকারী দল জানায়, এসব বরাদ্দের পেছনে কী ধরনের ‘অসামান্য অবদান’ ছিল তা সংশ্লিষ্ট ফাইলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। অর্থাৎ, কিসের ভিত্তিতে এতো বড় সুবিধা দেওয়া হলো-তার নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা নেই কোনো কাগজপত্রে।
এ নিয়ে দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্লট বরাদ্দের প্রক্রিয়া ঘিরে রাজউকে ‘বিশেষ বিবেচনা’ নামের একটি অস্বচ্ছ পথচলা চলছে দীর্ঘদিন। এই চালকদের বরাদ্দও সেই নীতিহীন ব্যবস্থারই অংশ হতে পারে।”
এই বিশেষ প্লট তালিকায় শেখ হাসিনার কার্যালয়ের ড্রাইভার ছাড়াও রয়েছেন ৪৫ জন ব্যবসায়ী, ২ জন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নাগরিক, সাংবাদিক, সাবেক বিচারপতি, আমলাসহ বিভিন্ন পেশার আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তবে তাদের অবদান সম্পর্কেও নেই নির্দিষ্ট মূল্যায়ন বা যাচাইয়ের স্বচ্ছতা।
রাজউকের সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করে দুদক এখন যাচাই করছে-এই বরাদ্দগুলো কেবল রাজনৈতিক প্রভাব বা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে হয়েছে কিনা। দুদকের চেয়ারম্যানের নির্দেশে এখন রাজউকের ‘বিশেষ বিবেচনায় প্লট বরাদ্দ নীতিমালা’ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। ক্ষমতাসীন দলের অনেকে বিষয়টিকে ‘বিগত সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে বিরোধীদল বলছে, “এই ঘটনা প্রমাণ করে, পূর্বের সরকার ছিল প্রভাব ও পরিবারতন্ত্রনির্ভর।”
দুদক জানিয়েছে, রাজউক থেকে জব্দ করা নথিগুলো বিশ্লেষণ শেষে প্রয়োজনে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট সচিব এবং প্লটপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে।

কিওয়ার্ডস :শেখহাসিনারচালক,রাজউকপ্লটদুর্নীতি,দুদকতদন্ত,ঝিলমিলআবাসন,PowerAbuseBangladesh


এ জাতীয় আরো খবর