শনিবার, মে ৩০, ২০২৬

সিরিয়ায় ইসরায়েল-ড্রুজ সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতি,যুক্তরাষ্ট্র বলছে “নতুন অধ্যায়ের সূচনা”

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৭-১৯ ১৩:২০:৪৯
ছবি সংগৃহিত

সিরিয়ার সুয়াইদা অঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও ড্রুজ-বেদুইন সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে সিরিয়া ও ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে একটি “কূটনৈতিক মাইলফলক” হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিগত এক দশক ধরে সিরিয়া গৃহযুদ্ধে লিপ্ত। বাশার আল-আসাদের পতনের পর দেশটিতে সরকারপন্থী ও বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ একাধিক পর্যায়ে ছড়ায়। সম্প্রতি সুয়াইদা অঞ্চলে ড্রুজ ও বেদুইনদের মধ্যে জাতিগত উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, যা আবারও দেশটির অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে সামনে নিয়ে এসেছে।
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই সিরিয়ার অভ্যন্তরে টার্গেটেড স্ট্রাইক চালিয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি হামলার ব্যাপ্তি বেড়েছে। গত বুধবারের হামলায় রাজধানী দামেস্কে সরকারি ভবনে আঘাত হানায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দেখা দেয়।
শনিবার ভোরে X (সাবেক টুইটার)-এ যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক ঘোষণা দেন, সিরিয়া ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে। এই চুক্তিটি তুরস্ক, জর্ডান এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্মতিতেই হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন: “আমরা ড্রুজ, বেদুইন এবং সুন্নি সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই—অস্ত্র নামিয়ে রাখুন এবং শান্তি ও ঐক্যের পথে এগিয়ে চলুন।”
বুধবারের ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিরিয়ান কর্তৃপক্ষ। একটি লাইভ টিভি ব্রডকাস্টে হামলার মুহূর্তও ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভবন লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়। এই হামলার পর ড্রুজদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর নতুন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা জানান, সুয়াইদা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়েছে।
তবে সরকার ও ড্রুজদের মধ্যে একটি আলাদা যুদ্ধবিরতিতেও চুক্তি হয়েছে-যা সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ সংলাপের দিকে বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি যদি স্থায়ী হয়, তাহলে এটি সিরিয়া-ইসরায়েল সম্পর্ক, জাতিগত সহাবস্থান ও আঞ্চলিক শান্তির জন্য একটি যুগান্তকারী মোড় হতে পারে।
তবে শারা সরকার ইসরায়েলকে দায়ী করেছে অভ্যন্তরীণ বিভেদ ছড়ানোর জন্য। তাদের ভাষায়, “ইসরায়েল সিরিয়াকে একটি অস্থির যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করতে চায়।”
এর ফলে অঞ্চলটিতে মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির সাম্প্রতিক অস্থিরতা যেমন গাজা যুদ্ধ, ইরান-ইসরায়েল টানাপোড়েন এবং সিরিয়ায় জাতিগত সংঘর্ষ-সবই এক সুতোয় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই যুদ্ধবিরতি যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছু ও আন্তর্জাতিক তদারকির মাধ্যমে রক্ষা পায়, তবে সিরিয়ায় একটি অন্তর্বর্তী শান্তির যুগের সূচনা হতে পারে। ড্রুজ, বেদুইন ও সুন্নিদের নিয়ে একটি “একতাবদ্ধ সিরিয়া” গড়ার যে ডাক দেওয়া হয়েছে, তা কতটা কার্যকর হয় সেটিই এখন সময়ের বড় প্রশ্ন।

কিওয়ার্ডসঃ সিরিয়া যুদ্ধবিরতি, ইসরায়েল হামলা সিরিয়া, সুয়াইদা সংঘর্ষ, যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া নীতি, মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা


এ জাতীয় আরো খবর