বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬

ঐতিহাসিক সাফল্য: শ্রীলঙ্কার মাটিতে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • ২০২৫-০৭-১৭ ০০:৪৫:৪২
ছবি সংগৃহিত

টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে একের পর এক ব্যর্থতা। সমালোচনায় জর্জরিত পুরো দল। ক্রিকেটপ্রেমীরা হতাশ, ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা। কিন্তু শেষ বিকেলের আলোয় ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কাকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিলো টাইগাররা। এটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়-তাও প্রতিপক্ষের ঘরের মাঠে।
এই ম্যাচের আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ছয়বার দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেও একটিও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। অবশেষে সপ্তম প্রচেষ্টায় এসে মিলল কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। এমন ঘুরে দাঁড়ানো জয় কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি মানসিক দৃঢ়তারও প্রতীক।
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে শুরুতেই দারুণ নিয়ন্ত্রণ দেখায় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে মাত্র ১৩২ রানে আটকে দেয় টাইগাররা। এই সাফল্যের নায়ক ছিলেন স্পিনার মাহেদী হাসান। একাদশে সুযোগ পেয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ ৪ উইকেট।
লক্ষ্য ছিল ছোট, কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার বোলিং লাইনআপ সব সময়ই কঠিন চ্যালেঞ্জ। ইনিংসের প্রথম বলেই ফিরে যান পারভেজ হোসেন ইমন। চাপ বাড়ে, কিন্তু তানজিদ হাসান ও লিটন দাস মিলে সামাল দেন পরিস্থিতি। তানজিদ খেলেন ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস—৭৩ রান, ৪৭ বলে, ১ চার ও ৬ ছক্কায় সাজানো এক ঝড়ো ইনিংস। লিটন খেলেন ৩২ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস, যোগ্য সহায়তা দেন তাওহীদ হৃদয় (২৫ বলে ২৭*)।
২১ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ম্যাচের মতো সিরিজও যায় টাইগারদের পকেটে।
এই সিরিজ জয়ের গুরুত্ব বেড়ে যায় কারণ সফরের শুরুর দিকটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। টেস্ট সিরিজ হোয়াইটওয়াশ, ওয়ানডে সিরিজ হাতছাড়া-প্রতিটি ম্যাচেই ছিল তীব্র সমালোচনার তীর। তবে শেষদিকে এসে টি-টোয়েন্টিতে দারুণ প্রত্যাবর্তন। প্রথম ম্যাচ হেরে পিছিয়ে পড়া দল দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সমতায় ফেরে এবং তৃতীয় ম্যাচে দাপুটে জয় এনে ইতিহাস গড়ে।
শুরুটা ভালোই করেছিল স্বাগতিকরা। ওপেনার নিশাঙ্কা করেন ৪৬ রান, আর ইনিংসের শেষ দিকে শানাকার ২৫ বলে ৩৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে কিছুটা সম্মানজনক স্কোর দাঁড় করায় লঙ্কানরা। তবে মূল ধস নেমেছে মিডল অর্ডারে। ১০.৩ ওভারে ৬৬ রানে পড়ে যায় তাদের পাঁচ উইকেট। মাহেদীর স্পিন ঘূর্ণিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে পুরো ব্যাটিং লাইনআপ।
শেষ ওভারে শরিফুল ইসলামের একটি বাজে ওভার (২২ রান) ছাড়া পুরো ইনিংসে বল হাতে নিয়ন্ত্রণে ছিল বাংলাদেশ। শরিফুল ছাড়াও মোস্তাফিজ ও শামীম একটি করে উইকেট শিকার করেন।
এই সিরিজ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে আরও একটি কারণে। এটি দ্বিতীয়বারের মতো কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম ম্যাচ হারার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জিতল টাইগাররা। আগেরবার ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েছিল বাংলাদেশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় শুধু একটি সিরিজ জয় নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় মাধ্যম। ক্রিকেট বিশ্লেষক আতহার আলী খান বলেন, "টানা ব্যর্থতার পর এমন একটি সিরিজ জয় দলের আত্মবিশ্বাসে হিমালয় গড়ে দেবে। বিশেষ করে তরুণদের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য বড় বার্তা দিচ্ছে।"
ম্যাচ শেষে মাহেদী হাসান বলেন, "আমার দায়িত্ব ছিল রানে লাগাম টানা, সেটা করতে পেরে ভালো লাগছে। জয়টা দলের ছিল, আমি শুধু চেষ্টা করেছি।" তানজিদ হাসান বলেন, "চাপ ছিল, তবে নিজেকে বিশ্বাস করেছি। ইনিংসটা আমি আমার ক্যারিয়ারের সেরা বলতে পারি।"
২০১৭ সালের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ সফরে শ্রীলঙ্কা গিয়েছিল বাংলাদেশ। শুরুটা ছিল বাজে, টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হার। কিন্তু শেষটা রাঙিয়ে দিল টাইগাররা। টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ে যেন খানিকটা হলেও প্রাপ্তির খাতা পূর্ণ হলো। এর মাধ্যমে শুধু শ্রীলঙ্কা সফর নয়, বিশ্বকাপের আগে নিজেদের নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার প্রেরণা পেল পুরো দল।
সকালের আলো ডট কম–এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন এবং আমাদের প্রিয় পাঠকদের ধন্যবাদ, যাঁরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাশে ছিলেন। ক্রিকেটের এই জয় হোক আগামী পথচলার অনুপ্রেরণা!

কিওয়ার্ডস:বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২০২৫, তানজিদ হাসান ব্যাটিং, মাহেদী হাসান বোলিং, শ্রীলঙ্কা সফর ২০২৫, বাংলাদেশ ক্রিকেট নিউজ

 
 

এ জাতীয় আরো খবর