২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি অমলিন রাখতে দেশের ৬৪ জেলায় ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেলে গণভবনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা’ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি। ফারুকী জানান, “আজ থেকেই এই নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। প্রথম স্মৃতিস্তম্ভটি নারায়ণগঞ্জে নির্মিত হয়েছে, সেখান থেকেই শুরু হলো দেশব্যাপী কাজের সূচনা।”
তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের সেই সাহসী ও ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগকে নতুন প্রজন্মের সামনে শ্রদ্ধার সঙ্গে উপস্থাপন করতেই এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৪ আগস্টের মধ্যেই দেশের ৬৪টি জেলায় নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে চলেছি।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, “২০২৪ সালের আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারী সংগ্রামীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন শুরু হয়েছে। তারা আমাদের সাহসের প্রতীক, ইতিহাসের গর্ব।”
তিনি জানান, “জুলাই কন্যা” নামে পরিচিত সেই নারী সংগ্রামীদের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সম্মানজনকভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। “জুলাই কন্যা” শব্দটি এখন শুধু প্রতীকী নয়, এটি একটি নীতিগত স্বীকৃতিতে রূপ নিচ্ছে, যা নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও স্বাধীনতাচেতনার প্রতিফলন।
উপদেষ্টারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য পরিবর্তনের সূচনা ঘটে, যেখানে গণমানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের স্মৃতি ও শিক্ষা ধরে রাখতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন, স্মৃতিচিহ্ন নির্মাণ এবং গবেষণাভিত্তিক প্রকাশনার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
আগামী আগস্টজুড়ে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণ মাস” হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় গণআলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শহীদদের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে।
কিওয়ার্ডস: জুলাই গণঅভ্যুত্থান, জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ, ২০২৪ রাজনৈতিক আন্দোলন, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জুলাই কন্যা, নারী সংগ্রামী, বাংলাদেশ রাজনৈতিক ইতিহাস, ২০২৫ খবর, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, সকালের আলো