শুক্রবার, ডিসেম্বর ১২, ২০২৫

মিটফোর্ডে প্রকাশ্যে খুন:মূল আসামিরা বাদ পড়ায় ‘রহস্যের ঘনঘটা’,পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ বিএনপি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৭-১৩ ০১:৫৯:০৩
ছবি সংগৃহিত

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহাগকে নির্মমভাবে পাথর ও ইট দিয়ে হত্যা-এ ঘটনায় মূল আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার না করা এবং এজাহার থেকে তাদের বাদ দেওয়াকে ‘রহস্যজনক’ ও ‘ন্যায়বিচারের প্রতি অপমানজনক’ বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল।
শনিবার (১২ জুলাই) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না। সঙ্গে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ শীর্ষ নেতারা।
মোনায়েম মুন্না বলেন, “সিসিটিভি ও মোবাইল ভিডিওতে যাদের সরাসরি আক্রমণ করতে দেখা গেছে, তারা মামলার প্রধান আসামি হননি। কেন তাদের বাদ দেওয়া হলো, সেটা জনগণ জানতে চায়। এটি নিছক তদন্ত ত্রুটি নয়, বরং প্রশ্নবিদ্ধ রাজনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত।”
তিনি বলেন, “মামলার বাদী নিজেই বলেছেন, পুলিশ কৌশলে মূল হত্যাকারীদের বাদ দিয়ে নিরপরাধ তিনজনকে আসামি করেছে। ৬০ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে, অথচ খুনিদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিষ্ক্রিয়।"
যুবদল নেতা বলেন, “আমরা কোনো দোষ ঢাকতে চাই না। ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত হওয়া আমাদের পাঁচজন কর্মীকে আমরা আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছি। আমরা সাংগঠনিক দায় নিচ্ছি, কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রশাসন দায় নিচ্ছে না কেন?”
তিনি আরও বলেন, “গত এক বছরে আমরা নিজেদের হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন কি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে? না নিয়ে থাকলে দায় কার?”
মুনা প্রশ্ন রাখেন, “ঘটনাটি বুধবার ঘটলেও গণমাধ্যমে তা প্রচার পায় শুক্রবার। মূলধারার মিডিয়ার কাছে ভিডিও থাকলেও তারা প্রকাশ করেনি। কিসের ভয়ে? কাদের চাপে? এটি সাংবাদিকতার চরম ব্যর্থতা।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, একই সময়ে খুলনায় যুবদলের বহিষ্কৃত এক নেতাকে গুলি ও রগ কেটে হত্যা, চাঁদপুরে খুতবা চলাকালে এক ইমামের ওপর হামলা, কুমিল্লায় একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা, এবং প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেতা পারভেজকে ছুরিকাঘাতে হত্যা-এসব ঘটনায় প্রশাসন নির্লিপ্ত থেকেছে।
মোনায়েম মুন্না বলেন, “এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এগুলো একটি পরিকল্পিত নৈরাজ্য, যাতে করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করা যায়।”
বক্তারা বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি সরকারের একটি পরিকল্পনার অংশ। উদ্দেশ্য হলো, অরাজকতা তৈরি করে নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।
মোনায়েম মুন্না বলেন, “এই সুযোগে একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠী সিলেক্টিভ প্রতিবাদ করে বিএনপিকে উসকানির রাজনীতিতে টেনে আনছে। কিন্তু আমরা স্পষ্ট করে বলছি-সন্ত্রাসী যেই হোক, দলীয় পরিচয় না দেখে বিচার চাই।”
সংবাদ সম্মেলনে যুবদল সভাপতি সাম্প্রতিক এক জরিপের কথা উল্লেখ করে বলেন, “তরুণরা এখন আর ফাঁকা স্লোগানে বিশ্বাস করে না। জরিপে দেখা গেছে, তরুণ সমাজ গণতন্ত্রমুখী বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব বিএনপিকেই দিতে চায়।”
গত ৯ জুলাই মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী ও যুবদল কর্মী মোহাম্মদ সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তাকে রড ও পাথর দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে বিবস্ত্র করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

কি ওয়ার্ডস:মিটফোর্ড খুন, যুবদল নেতা হত্যা, বিএনপি সংবাদ সম্মেলন, সোহাগ হত্যা মামলা, রাজনৈতিক হিংসা, পুলিশি নির্লিপ্ততা, ঢাকায় খুন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নয়াপল্টন সংবাদ সম্মেলন, যুবদল ছাত্রদল স্বেচ্ছাসেবক দল।


এ জাতীয় আরো খবর