শুক্রবার, ডিসেম্বর ১২, ২০২৫

মিটফোর্ডের নির্মম হত্যাকাণ্ডে উত্তাল শাহবাগ: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মশাল মিছিল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৭-১৩ ০১:১৫:৫৮
ছবি সংগৃহিত

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগকে (৩৯) প্রকাশ্যে ও নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভ, নিন্দা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
শনিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহবাগ মোড় থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদী মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে শহীদ মিনার পর্যন্ত যায়। মিছিল জুড়ে উঠেছে-
‘চাঁদাবাজদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’,
‘যেই হাত মানুষ মারে, সেই হাত ভেঙে দাও’,
‘আবু সাইদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’,
‘দালালি না রাজপথ? রাজপথ রাজপথ’,

এমন সব তীব্র প্রতিবাদী স্লোগান।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, “মিটফোর্ডের এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পশ্চাৎমুখী ও সহিংস ধারার অংশ। যেখানে চাঁদাবাজি, দখলদারি আর খুন হয়ে উঠেছে ছাত্র রাজনীতির বাস্তব রূপ।”
তিনি আরও বলেন, “আজ বিএনপি যেভাবে গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা বলছে, তারই ছায়ায় ছাত্রদল-যুবদল কর্মীরা খুনের মদদ দিচ্ছে। এই দ্বিচারিতা আমরা মানি না। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে নতুন ফ্যাসিবাদের জন্ম দিলে আমরাই সেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।”
সমাবেশে বক্তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের একটি ফেসবুক পোস্ট উদ্ধৃত করে বলা হয়, “দেশকে প্রস্তর যুগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।” বক্তারা প্রশ্ন রাখেন, “আপনারা সরকারে আছেন, তাহলে পুলিশ কেন এখনো জনগণের নয়? বাধা কোথায়? বলুন, আমরা প্রতিরোধ গড়ব।”
রিফাত রশিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হত্যাকাণ্ডের ভিডিও চিত্র মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার হাতে থাকলেও তারা তা প্রকাশ করেনি। তারা যেন শুধু দলবদল করেছে-হাসিনার কোলে ছিল, এখন নতুন কোলে আশ্রয় নিয়েছে। এই মিডিয়াকেও প্রতিরোধ করতে হবে।”
উল্লেখ্য, ১০ জুলাই বুধবার রাতে মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগকে ডাক দিয়ে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ইট-পাটকেল দিয়ে মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়, বিবস্ত্র করে তার দেহের ওপর লাফিয়ে চলে নির্যাতন। পুরো ঘটনাটি চলে বেশ কয়েক মিনিট। এমন বর্বরতা দেখে স্তম্ভিত দেশবাসী।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্তত চারজন নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল নিশ্চিত করেন, অন্তত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে ফের সামনে এলো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা চাঁদাবাজি ও দখল সংস্কৃতি। শুধু মিটফোর্ড নয়, ঢাকাসহ সারাদেশেই বড় বড় হাসপাতাল, খাল-বিল, মার্কেট ও ফুটপাত নিয়ন্ত্রণে থাকে ছাত্র-যুব নেতাদের ‘গোষ্ঠী’।
এই সংস্কৃতি বদলানো না গেলে রাজপথ আরও রক্তাক্ত হবে-এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক ছাত্রনেতারা।

কিওয়ার্ডস:মিটফোর্ড হত্যা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, শাহবাগ মিছিল, রাজনৈতিক সহিংসতা বাংলাদেশ, যুবদল হত্যা, চাঁদাবাজি রাজনীতি, মিটফোর্ড ব্যবসায়ী খুন, ঢাকা ছাত্র আন্দোলন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিবাদ, ছাত্র রাজনীতির অবক্ষয়


এ জাতীয় আরো খবর