বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬

‘শিল্পীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ বন্ধ হোক’: ডিপজলকে ঘিরে আলোচিত মামলায় প্রতিবাদ ঝড়

  • বিনোদন প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৭-০৯ ২৩:৩৩:২৪
ছবি সংগৃহিত

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা ও প্রযোজক ডিপজল-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা মারধর ও অ্যাসিড নিক্ষেপের মামলা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এক নারীর দায়ের করা এই মামলাকে “ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” উল্লেখ করে চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।মামলাটি হওয়ার পর শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য ও গুণী অভিনেত্রী রুমানা ইসলাম মুক্তি ডিপজলের পাশে দাঁড়িয়েছেন । এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক ওয়ালে এটা নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন। পোস্টটির বক্তব্য নিয়ে রিপোর্টটি করা হল-
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের সময় ডিপজল নিয়মিত এফডিসিতে উপস্থিত থাকতেন। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে পরিচালক সমিতি ভবনের সামনে এসে এক নারীর কান্নারত দৃশ্য দেখতে পান তিনি। নারীর বুকে ছিল ডিপজলের ছবি। তিনি নিজেকে ‘ডিপজলের ভক্ত’ দাবি করে একবার কথা বলার সুযোগ চান এবং তার অসহায় অবস্থার কথা জানান।
ডিপজল সেই সময় সহানুভূতি প্রকাশ করে জানান, নির্বাচন শেষ হলে বিষয়টি দেখবেন। পরবর্তীতে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সময়ে ওই নারী সন্তানসহ এফডিসিতে আসেন এবং চেষ্টা করেন ডিপজলের সঙ্গে দেখা করতে।
একপর্যায়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে ওই নারী অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছেও ডিপজলের সঙ্গে দেখা করানোর অনুরোধ করেন। সে সময় কান্নারত অবস্থার ভিডিও ভাইরাল হয়। এছাড়াও, গাবতলীর গরুর হাটে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা অনেকেই ‘পাগলামি’ বলে অভিহিত করেছেন।
এমন পটভূমির পরও হঠাৎ করে ডিপজলের বিরুদ্ধে মারধর ও অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগ এনে মামলার খবর প্রকাশিত হলে ব্যাপক বিস্ময় সৃষ্টি হয়। অনেকেই বিষয়টিকে "সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত" বলে অভিহিত করছেন।
একটি ফেসবুক পোস্টে ডিপজল অভিযোগ করেন, “ওই নারী তার কাছে অসহায়ত্বের কথা বলে একাধিকবার অর্থ সহায়তা নিয়েছেন”। তিনি বলেন, “এই মামলার পেছনে অন্য কেউ আছেন। আমার জনপ্রিয়তা বা সামাজিক অবস্থানকে লক্ষ্য করেই এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।”
একাধিক সিনিয়র শিল্পী ও চলচ্চিত্র কর্মী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন- “শিল্পীদের বিরুদ্ধে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ সাধারণত মানসিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়। আদালতের উচিত এ ধরনের অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করে আনা।”
মহিলাটি যেভাবে নিজেকে 'অন্ধভক্ত' হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন, এবং সেই সময়ে তার আচরণে যা দেখা গেছে-তা আদালত ও তদন্ত সংস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একই ব্যক্তি কিছুদিনের ব্যবধানে ভক্ত থেকে অভিযোগকারী হয়ে উঠেছেন, যা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে তার উদ্দেশ্য নিয়ে।
এই ঘটনা ঘিরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে- “জনপ্রিয়তা বা জনসম্পৃক্ততা কি এখন শিল্পীদের জন্য ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে?”
অনেকেই চাইছেন, যেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো শিল্পীদের বিষয়ে দায়ের হওয়া মামলাগুলো বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিবেচনা করে।

সম্পাদকীয় পর্যবেক্ষণ: অভিযোগ নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হোক
মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শরণাপন্ন হওয়া নাগরিক অধিকার হলেও ভিত্তিহীন অভিযোগ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা কারো ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে। আদালত ও তদন্ত সংস্থার কাছে সত্য উদঘাটনই এখন মুখ্য। পাশাপাশি, গণমাধ্যমসহ সকল মহলকে সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

কিওয়ার্ডস:

ডিপজলের বিরুদ্ধে মামলা, ডিপজল অ্যাসিড মামলার সত্যতা, এফডিসি ভিত্তিহীন অভিযোগ, শিল্পী সমিতি নির্বাচন বিতর্ক, চলচ্চিত্র শিল্পী হয়রানি, ফেসবুকে ডিপজল স্ট্যাটাস, ডিপজল ভক্ত নারী ভিডিও, শিল্পী নিরাপত্তা বাংলাদেশ


এ জাতীয় আরো খবর