মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

এনবিআর কর্মীদের ক্ষমা প্রার্থনা-শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাচভিত্তিক অনুশোচনা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৭-০৮ ১৮:৫৯:১০

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মচারীরা আজ (৮ জুলাই) তাদের আন্দোলনের ছায়া কাটিয়ে আনতে সংস্থার চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান-এর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এটি ছিল ব্যাচভিত্তিক অনুষ্ঠান-যেখানে বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ব্যক্তিগত এবং সামूहিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।
মধ্য মে থেকে জুন অবধি এনবিআর কর্মীরা বোর্ডের বিলুপ্তি ও পুনর্গঠনের প্রতিবাদে কর্মবিরতি, কলমবিরতি ও “complete shutdown” কর্মসূচি চালিয়েছিলেন। প্রতিবাদের জেরে দেশের আমদানি-রপ্তানি ও রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে ।
এরপর সরকার এনবিআর ও আইআরডি বিলুপ্তি করে প্রতিস্থাপন করে-রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ হিসেবে, যা প্রশাসনিকভাবে বিতর্কিত ছিল।
আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মীদের মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত, বাধ্যতামূলক অবসর,পদোন্নতি স্থগিত ও দন্ড দেওয়ার মতো পদক্ষেপ হয়। এছাড়া কিছু সিনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হয়। এতে কর্মীদের মধ্যে “চাপা আতঙ্ক” জন্মায় ।
ক্ষমাপ্রার্থণায় অংশ নিয়েছেন আয়কর বিভাগের বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মীরা।
তাদের মধ্যে: ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩৩, ৩৮ ও ৪০ ব্যাচের অফিসাররা। তেমনিভাবে সাম্প্রতিক পদোন্নতি পাওয়া অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা
-মোট প্রায় ২০০–২৫০ কর্মী ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে দেখা করে ক্ষমা চান, পুনরায় “দেশ ও সংগঠনের জন্য এক সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার” ব্যক্ত করেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন: “যদি সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করে এবং নিয়মমতো রাজস্ব আদায় চালায়, তবে তাদের ভয় করার কোনো কারণ নেই। কিছু বড় সীমা লঙ্ঘনকারীকে ভিন্নভাবে দেখা হবে। কর্মপরিবেশে আতঙ্ক যেন না থাকে, সেটিই এখন প্রয়োজন।” 
তিনি আরও বলেছেন, “আতঙ্ক থাকলে রাজস্ব আদায়ে ব্যাঘাত ঘটবে, যা দেশের স্বার্থে হানা সত্যিই দুর্ঘটনাজনক হতে পারে” ।
আন্দোলন পরবর্তী পরিস্থিতিতে কয়েকজন কর্মকর্তা জোর করে অবসরে পাঠানো, কোনো ক্ষেত্রে দুদকের তদন্ত ও পদোন্নতি স্থগিত করা হয় ।
চেয়ারম্যান ডিএমপি, বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন করে তাঁর সভা-সভাগুলোতে ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করেছেন ।
বিভিন্ন সংবাদে উল্লেখিত পরিস্থিতি-যাতে কর্মীরা ‘persona non grata’ ঘোষণা করেছিল-সেই পরিস্থিতি থেকে সরাসরি উত্তরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে ।
ঢাকা কাস্টমস হাউজে চেয়ারম্যানের উপস্থিতি এবং “automated a‑challan” ও সফটওয়্যার চালু কর্মীদের আতঙ্ক হ্রাস পেতে সাহায্য করছে ।
চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরে ৩.৬৮ ট্রিলিয়ন টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে এবং এটি ছোটখাটো প্রবঞ্চনা সত্ত্বেও বৃদ্ধি পাবে ।
তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, সঠিক আচরণ মেনে চললে কর্মীদের জন্য ভয় বা প্রতিশ্রমের প্রয়োজন নেই।

"বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমাপ্রার্থনা একটি নেতিবাচক সংকট থেকে উত্তরণের নিদর্শন, যেটা কোভিড‑পরবর্তী বিশ্বে সংগঠন ও প্রশাসনে দায়িত্বশীলতার নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে।" তবে এর পিছনে থাকা দুদকের তদন্ত ও অবসরে পাঠানো কর্মকর্তা‑পরিস্থিতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়; এটি একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক প্রয়োগ’ -যেখানে নেতার শাসনপরবর্তী দৃঢ় ক্ষমতা প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে।

তবে চূড়ান্ত স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজন আরও স্পষ্ট দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ-যেমন বিভ্রাটকারীদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযানের দায়।

এনবিআরে ব্যাচভিত্তিক ক্ষমাপ্রার্থনা এসেছে আন্দোলন শেষ হওয়ার পর শুধুমাত্র আতঙ্ক কমানোর জন্য নয়, বরং শৃঙ্খলিত কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনঠন নির্দেশ হিসাবে।
চেয়ারম্যানের স্পষ্ট বার্তা-দায়িত্ব পালন করলে ভয়ের কিছু নেই; সীমালংঘন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে-এটি একটি সমন্বিত ‘নতুন প্রশাসনিক চুক্তি’।
তবে দলীয় একতা, উন্মুক্ততা ও স্বচ্ছ প্রণোদনা ব্যবস্থাও এখন সময় চেয়ে উঠেছে, যাতে একই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি না হয়।
কীওয়ার্ডস:

NBR আন্দোলন ২০২৫, এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, এনবিআর সংস্কার, এনবিআর ক্ষমা, এনবিআর রাজস্ব কর্মকর্তাদের আন্দোলন, এনবিআর সর্বশেষ খবর, রাজস্ব বিভাগ ২০২৫, NBR Officer Apology 2025

 

 


এ জাতীয় আরো খবর