বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬

কাকরাইলে বিডিআর সদস্যদের বিক্ষোভে পুলিশের জলকামান-সাউন্ড গ্রেনেড: ছত্রভঙ্গ, আহত অনেকে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৭-০৭ ১৪:০২:০৩
ছবি সংগৃহিত

চাকরিতে পুনর্বহাল ও ঐতিহাসিক স্বীকৃতির দাবিতে রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থান নেওয়া চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের বিক্ষোভে পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ চালিয়ে ছত্রভঙ্গ করেছে। এই ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার (৭ জুলাই) সকালে তারা শাহবাগ মোড়ে জড়ো হয়ে তিন দফা দাবিতে পদযাত্রা শুরু করেন। গন্তব্য ছিল প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’। তবে কাকরাইল মসজিদের সামনে পুলিশ তাদের পথ আটকে দেয় এবং ১০ মিনিটের আল্টিমেটাম দেয় সরে যাওয়ার জন্য।
কিন্তু আন্দোলনকারীরা সরে না দাঁড়ালে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জলকামান ছুড়ে, সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ও লাঠিচার্জ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।
রমনা থানার পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম বলেন, “ডিএমপি সচিবালয় ও যমুনা বাসভবনের চারপাশে যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদযাত্রা করায় আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি।”
আন্দোলনে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত সাবেক বিডিআর সদস্যরা জানান, তারা তিনটি মূল দাবির পক্ষে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। দাবিগুলো হলো:
চাকরিতে পুনর্বহাল ও ক্ষতিপূরণ প্রদান
২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী গঠিত তদন্ত কমিশনের বিতর্কিত ধারা বাতিল
বিডিআর নাম পুনর্বহাল এবং কারাগারে বন্দি সদস্যদের মুক্তি

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ৬০০০ বিডিআর সদস্য বিচারের মুখোমুখি হন। মামলার রায় ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হাজার হাজার সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরবর্তীতে বাহিনীর নাম বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) করা হয়।
চাকরিচ্যুত অনেক সদস্য অভিযোগ করেন, নিরপরাধ হয়েও তারা সাজা পেয়েছেন, অনেকে এখনো বিচারবিহীনভাবে কারাবন্দি। এ অবস্থায় তারা পুনরায় চাকরি, নাম পুনর্বহাল এবং বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন।
ঘটনার পর কাকরাইল মোড়ে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা dispersed হলেও তারা জানিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা রয়েছে তাদের।
এই ঘটনাটি শুধু আইনশৃঙ্খলা বিষয় নয়, বরং এটি পিলখানা-পরবর্তী রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, মানবাধিকার, বিচারপ্রক্রিয়া ও ঐতিহাসিক স্বীকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। সাবেক বিডিআর সদস্যদের দাবিগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনায় রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কমিশনের দায়িত্ব রয়েছে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

কীওয়ার্ডস:

বিডিআর সদস্যদের আন্দোলন ২০২৫, কাকরাইল বিডিআর বিক্ষোভ, পিলখানা হত্যা মামলা আপডেট, চাকরিচ্যুত বিডিআর, জলকামান লাঠিচার্জ ঢাকা, যমুনা বাসভবন বিক্ষোভ, বিডিআর নাম পুনর্বহাল দাবি, বিজিবি প্রতিবাদ ২০২৫


এ জাতীয় আরো খবর