মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষকের দশম গ্রেডে উন্নীতির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৭-০৬ ২১:২৩:৪২

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষক শিগগিরই দশম গ্রেডের বেতন কাঠামোতে উন্নীত হতে যাচ্ছেন। বিষয়টি এখন সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর

অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে ৪৫ জন রিটকারী প্রধান শিক্ষককে ১১তম গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করার অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এই রায় বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় সমগ্র দেশের প্রধান শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের পথে

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৯ মার্চ সরকার প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার ঘোষণা দেয়। তবে প্রশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকদের মধ্যে গ্রেড বৈষম্য রেখে ১১তম ও ১২তম গ্রেড নির্ধারণ করা হয়, যা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪৫ জন প্রধান শিক্ষক রিট পিটিশন নং-৩২১৪/২০১৮ দায়ের করেন। ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায়ে তাদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার নির্দেশ দেন, যা পরবর্তীতে আপিল বিভাগেও বহাল থাকে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আবুল কাশেম বলেন, “সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। এতে দেশের প্রায় ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষক উপকৃত হবেন।” তবে তিনি যোগ করেন, “আমাদের পূর্ণ দাবি ছিল-সব প্রধান শিক্ষকের দশম গ্রেড এবং সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন। আমরা চাই এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসুক।”

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আদেশে আরও বলা হয়েছে, দশম গ্রেড বাস্তবায়নের আশায় কিছু অসাধু ব্যক্তি চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এজন্য শিক্ষক সমাজকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত যেকোনো ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

অধিদপ্তরের পরিচালক মো. কামরুল হাসান বলেন, “চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। যেহেতু সরকারের আর্থিক প্রস্তুতি রয়েছে এবং ইতিবাচক মনোভাবও আছে, আমরা আশাবাদী যে, অনুমোদন পেলেই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।”

এখন প্রস্তাবটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই দেশব্যাপী ৩০ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক একযোগে নতুন গ্রেডের আওতায় আসবেন। যদিও নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়নি, তবে ২০২৫ অর্থবছরের মধ্যেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল

কিওয়ার্ডস:

প্রাথমিক শিক্ষক দশম গ্রেড, প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল, সরকারি স্কুল শিক্ষক বেতন ২০২৫, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ প্রধান শিক্ষক বেতন আপডেট, রিট পিটিশন ৩২১৪/২০১৮, শিক্ষক চাঁদাবাজি সতর্কতা, শিক্ষক গ্রেড বাস্তবায়ন


এ জাতীয় আরো খবর