ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস ‘মহররম’। এ মাস হিজরি বছরের সূচনার প্রতীক হলেও মুসলিম উম্মাহর জন্য এটি আত্মবিশ্লেষণ, শোক, এবং ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ মাসকে ‘আল্লাহর মাস’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা এর বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতকে নির্দেশ করে।
কোরআনের সূরা তাওবার ৩৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: “আল্লাহর বিধান অনুযায়ী মাস বারোটি। তার মধ্যে চারটি মাস বিশেষ সম্মানিত।”
মহররম সেই চার পবিত্র মাসের একটি। এই মাসে নফল রোজা, দান-সদকা ও ইবাদত করার জন্য রয়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও ফজিলত।
মহররমের ১০ তারিখ ‘আশুরা’ মুসলিম ইতিহাসে একটি বেদনাময় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এদিন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকালে আশুরার রোজা পালন করেন। এদিন নবী মুসা (আ.) ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। আর ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা হলো, ৬১ হিজরিতে ইমাম হুসাইন (রা.) ও তার পরিবার ইয়াজিদের বাহিনীর হাতে কারবালার ময়দানে শহীদ হন।
এই শহিদি ঘটনা ইসলামের সত্য ও ন্যায়ের সংগ্রামের চিরন্তন প্রতীক হয়ে আছে। হুসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাহকে সাহস, আদর্শ ও অবিচলতার শিক্ষা দেয়।
আশুরার দিন রোজা রাখা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “আমি আশা করি, আল্লাহ তা’আলা এটি বিগত বছরের গোনাহ মাফ করে দেবেন।” (সহীহ মুসলিম)
তবে ইহুদিদের রীতি অনুসরণ না করতে রাসূল (সা.) আশুরার আগের দিন (৯ মহররম) বা পরের দিন (১১ মহররম) মিলিয়ে দুই দিন রোজা রাখার তাগিদ দিয়েছেন।
মহররম শুধু শোক ও স্মরণের সময় নয়-এটি আত্মবিশ্লেষণ, ধৈর্য ও নৈতিকতা রক্ষার প্রতীকও। মহররমের শিক্ষা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং আল্লাহর পথে অটল থাকা। ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা ও রোজার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জনের শ্রেষ্ঠ সুযোগ এই মাস।
মহররম মাসে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আশুরার স্মরণে দোয়া, মিলাদ, তাজিয়া মিছিল, ওয়াজ মাহফিল ও কোরআন খতমের আয়োজন করা হয়। তবে ইসলামি পণ্ডিতরা স্মরণ ও শোকের সময় শান্তিপূর্ণ ও শরিয়তসম্মত আচরণের ওপর গুরুত্ব দেন।
ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতি ও ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সবাইকে মহররম পালন করতে হবে। উসকানিমূলক বক্তব্য, বিভেদমূলক আচরণ বা অপসংস্কৃতি থেকে বিরত থাকতে ইসলাম জোর তাগিদ দেয়।