মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

জঙ্গি নয়, ছিনতাইই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: হোলি আর্টিজান দিবসে ডিএমপি কমিশনারের বিস্ফোরক মন্তব্য

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৭-০১ ১৫:১০:৪২
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশে এখন কোনো জঙ্গির হুমকি নেই, বরং বড় চ্যালেঞ্জ ছিনতাই ও সামাজিক অপরাধ। মঙ্গলবার (১ জুলাই) গুলশানের হোলি আর্টিজান হামলার বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এখন জঙ্গি বলে কিছু নেই। যারা আগে নাটক সাজিয়ে জঙ্গির নামে ছেলেপেলেদের মেরেছে, সেই সময় শেষ। এখন আমাদের আসল লড়াই ছিনতাই ও পেটের দায়ে মানুষ যে অপরাধে জড়াচ্ছে, তার বিরুদ্ধে।”
হোলি আর্টিজান বেকারিতে ২০১৬ সালের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার স্মরণে এবার সরকারি বা বিদেশি কোনো উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি ছিল না। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান জানান, “চলতি বছর আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধাঞ্জলির কোনো কর্মসূচি নেই। কিছু অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে মাত্র।”
স্মরণযোগ্য যে, প্রতিবছর ১ জুলাই নিহত দুই পুলিশ সদস্য-বিপ্লব ও সালাউদ্দিনের স্মরণে গুলশান থানার সামনে নির্মিত ‘দীপ্ত শপথ’ ভাস্কর্যে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। একইসাথে, ৫ নম্বর বাড়ির সেই জায়গায় উপস্থিত থাকতেন ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা। তবে এবার সকলেই নীরব।
হোলি আর্টিজান হামলার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “হামলার প্রকৃত তথ্য আমার জানা নেই। তবে একটা কথা নিশ্চিত করে বলতে পারি, এখন দেশে কোনো জঙ্গি নেই। মানুষ এখন পেটের দায়ে ছিনতাই করে, আদর্শের জন্য নয়।”
এই বক্তব্যে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, তবে কি ২০১৬ সালের হোলি আর্টিজান হামলাটিও 'সাজানো নাটক' ছিল? কমিশনারের বক্তব্যে হামলার উৎস ও উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশান-২-এর হোলি আর্টিজান বেকারিতে ঢুকে পাঁচ তরুণ সশস্ত্র হামলা চালায়। গুলি, বোমা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে ২০ জনকে হত্যা করা হয়, যাদের মধ্যে ১৭ জনই বিদেশি। নিহতদের মধ্যে ছিলেন:
৯ জন ইতালির নাগরিক
৭ জন জাপানি
১ জন ভারতীয়
১ জন বাংলাদেশি-আমেরিকান
২ জন বাংলাদেশি

হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে প্রাণ হারান পুলিশের দুই কর্মকর্তা। ঘটনাস্থলে পরে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে পাঁচ হামলাকারীকেই হত্যা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস হামলার দায় স্বীকার করলেও, বাংলাদেশ সরকার তখন থেকেই বলে আসছে, এ হামলার পেছনে ছিল দেশীয় সংগঠন 'নব্য জেএমবি'।
ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলীর বক্তব্যে জঙ্গিবাদের বাস্তবতা ও অতীত ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপট নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে এটিকে বর্তমান সরকারের 'রাজনৈতিক ব্যাখ্যা' বললেও, কেউ কেউ মনে করছেন-এই বক্তব্য রাষ্ট্রের নতুন ন্যারেটিভ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জঙ্গিবাদ ও অপরাধ প্রবণতা কখনোই পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয় না, তবে এর মাত্রা ও অভিব্যক্তি পাল্টে যেতে পারে। কমিশনারের বক্তব্যে সেই পরিবর্তিত বাস্তবতাই উঠে এসেছে, নাকি পুরনো ঘটনার দায় এড়ানোর কৌশল-তা সময়ই বলবে।
হোলি আর্টিজান হামলা এখনো বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বাধিক আলোচিত ও বিতর্কিত জঙ্গি হামলার ঘটনা। প্রত্যেক বছর এই দিনটি নিয়ে আলোচনা হলেও এবার সরকারি আনুষ্ঠানিকতা ও বিদেশি অংশগ্রহণের অভাব বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

 


এ জাতীয় আরো খবর