বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬

১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি: তালাকনামা হাতে পেয়ে ‘পাপমুক্তির’ গোসল, শেরপুরে চাঞ্চল্য

  • শেরপুর সংবাদদাতা
  • ২০২৫-০৬-২৬ ২২:৩৮:০৩
ছবি সংগৃহিত

শেরপুরে এক ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনার জন্ম দিয়েছেন পঞ্চাশোর্ধ এক কাঠমিস্ত্রি। ১৮ বছরের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার খবর পাওয়ার পর ‘পাপমুক্তি’র প্রতীকী অভিব্যক্তি হিসেবে তিনি প্রকাশ্য স্থানে গোসলে বসেন-তাও আবার গরুর দুধ দিয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের মধ্য কুমড়ি গ্রামে। বুধবার (২৫ জুন) বিকালে ওই গ্রামের মৃত আক্রাম হোসেনের ছেলে ফজল মিয়া (৫০) বাজারের শত শত মানুষের সামনে একটি বালতিতে গরুর দুধ ঢেলে নিজেই নিজের শরীরে ঢেলে দেন। এরপর বলেন, “আজ আমি পাপমুক্ত হলাম।”
স্থানীয় সূত্র বলছে, প্রায় দেড় যুগ আগে ফজল মিয়া বিয়ে করেন পার্শ্ববর্তী এলাকার ময়না বেগমকে। তাদের ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তবে সংসারের টানাপোড়েনের কারণে ময়না বেগম প্রথমে শেরপুরে এবং পরে ঢাকায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ নিতে যান। এই সময় দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে স্বামীর সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না।
ফজল মিয়ার অভিযোগ, স্ত্রী ময়নার সঙ্গে দূরত্ব ক্রমেই বাড়তে থাকে, এবং পরে তিনি জানতে পারেন ময়না ঢাকায় “অন্য সম্পর্কে” জড়িয়ে পড়েছেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা দাম্পত্য কলহের জের ধরেই ময়না সম্প্রতি ঢাকা থেকে তালাকনামা পাঠান। তালাকনামা হাতে পাওয়ার পরদিনই ফজল প্রকাশ্যে তার এই প্রতিক্রিয়া জানান।
বাজিতখিলা বাজারে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ফজল মিয়া একটি বালতিতে দুধ এনে বাজারের মাঝখানে বসে পড়েন। চারদিকে উৎসুক জনতার ভিড়। এরপর নিজেই নিজের শরীরে দুধ ঢালতে শুরু করেন। এই সময় তিনি উচ্চস্বরে বলেন, “ভুল মানুষের সঙ্গে ১৮ বছর সংসার করেছি। এখন আমি মুক্ত।”
তিনি আরও বলেন, “যে স্ত্রী নিজে থেকে স্বামীর সংসার ছাড়ে, তার সঙ্গে আর সম্পর্ক রেখে লাভ নেই। আমি যেন আর কোনো আবেগে না ভুলি, সেই জন্য নিজেকে প্রতীকি শুদ্ধ করলাম।”
বাজিতখিলা ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বার রুবেল মিয়া বলেন, “ঘটনার সত্যতা আমি নিশ্চিত করেছি। ময়না বেগম দীর্ঘদিন ঢাকায় থাকতেন। তাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ ছিল না। শেষ পর্যন্ত তালাকনামা পাঠানোর পরই এ ঘটনা ঘটেছে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি ব্যক্তি পর্যায়ের হলেও সামাজিকভাবে বিষয়টি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জনসম্মুখে এমন প্রতিক্রিয়া কিছুটা ‘অসাধারণ’ হলেও আইনগতভাবে দাম্পত্য কলহ বা তালাক একটি ব্যক্তিগত বিষয় বলেই গণ্য হয়।
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বলছেন, এটি একজন আহত স্বামীর মানসিক প্রতিবাদের প্রকাশ। কেউ কেউ এটিকে নাটকীয়তা ও অপ্রয়োজনীয় পাবলিসিটির চেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
মনোবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ মানসিকভাবে অনেককে নাড়া দেয়। প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া অনেক সময় সমাজের প্রতি এক ধরণের বার্তা বহন করে-যেটি হয়তো ব্যক্তি অভিজ্ঞতা থেকেও উৎসারিত হতে পারে।

সংক্ষেপে:
একটি তালাকনামা একজন মানুষকে জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। তবে সেই ভাবনার প্রতিফলন কীভাবে প্রকাশ পাবে-তা সমাজ ও ব্যক্তির ভেতরের দ্বন্দ্বেরও প্রতিচ্ছবি। শেরপুরের এই ঘটনা হয়তো বিচ্ছিন্ন, কিন্তু প্রশ্ন তো থেকেই যায়-আমাদের সম্পর্কগুলো কি যথেষ্ট টেকসই? নাকি এক টানেই সব কিছু ভেঙে পড়ে?


এ জাতীয় আরো খবর