সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬

ঈদযাত্রায় ভাড়া আদায়ে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ: ফেরত ৩৫ লাখ টাকা, গ্রেপ্তার ১৫১ জন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৬-১৯ ২১:০৯:২৪

ঢাকা | ১৯ জুন ২০২৫
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগে ১ হাজার ২৫৫টি যানবাহন থেকে আদায়কৃত ৩৫ লাখ ২৬ হাজার ২৩৩ টাকা সরাসরি যাত্রীদের মাঝে ফেরত দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে গৃহীত সামগ্রিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর এ ভূমিকাকে নজিরবিহীন বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মিলিটারি অপারেশনস ডিরেক্টরেটের (স্টাফ কর্নেল) কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল শফিকুল ইসলাম জানান, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঈদের আগের সপ্তাহ এবং পরের সপ্তাহ মিলিয়ে মোট ১৪ দিন সেনাবাহিনী বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করে।

এই কার্যক্রমের আওতায়:
জাতীয় মহাসড়ক ও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে দিন-রাত টহল
স্পর্শকাতর এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে তদারকি ও সরাসরি আর্থিক রিফান্ড
টিকিট কালোবাজারি ও অতিমূল্য বিক্রি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি করা হয়।

ঈদের যাত্রা ও ফিরতি স্রোতে ভাড়া নিয়ে প্রতারণা ঠেকাতে সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করে। এ সময় ১ হাজার ২৫৫টি যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই টাকাগুলো আদায় করে ভুক্তভোগী যাত্রীদের ফেরত দেওয়া হয়।
এ ছাড়া চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে:
১৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বিভিন্ন অপরাধে,
র‍্যাকার ব্যবহার করে উদ্ধার করা হয় ৯টি যানবাহন।

ঈদ ঘিরে সড়কপথে চাঁদাবাজি ও অবৈধ স্থাপনা নিয়েও কঠোর অবস্থান নেয় সেনাবাহিনী। অভিযান চালিয়ে-
৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে,
১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৪৩০ টাকা জব্দ করা হয়েছে চাঁদাবাজির অভিযোগে।

কর্নেল শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, সেনাবাহিনীর সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার কারণে গত বছরের তুলনায় এবারে সড়ক দুর্ঘটনা, মৃত্যু এবং গুরুতর আহতের হার অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।
বিশেষ করে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই,স্পট টিকিট চেকিং প্রক্রিয়ায় আগাম সতর্কতা থাকায় দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা আরও জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশ সফররত ভুটান ও সিঙ্গাপুরের জাতীয় ফুটবল দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
৪ ও ১০ জুন অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে বিমানবন্দর, হোটেল ও স্টেডিয়ামে খেলোয়াড়দের যাতায়াত, নিরাপত্তা এবং জনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী ছিল প্রথম সারির দায়িত্বে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কর্নেল শফিকুল ইসলাম আরও বলেন-
জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ৪,৬৮৩ জনকে দেশের বিভিন্ন সিএমএইচ-এ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে সেনাবাহিনী;
এর মধ্যে ঢাকা সিএমএইচে এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৮ জন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনী সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
কক্সবাজারে এফডিএমএন ক্যাম্প এলাকার নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল ও তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই কার্যক্রম প্রমাণ করেছে-জনস্বার্থে সেবা দেওয়া ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একার দায়িত্ব নয়, বরং সংবেদনশীল সময়গুলোতে সেনাবাহিনীও সরাসরি মাঠে নেমে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। ঈদযাত্রার সময় অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে একটি পজিটিভ নজির হয়ে থাকবে।


এ জাতীয় আরো খবর