বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান নিসচার

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-১০-০১ ২১:৫৬:৪০

আগামী ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে অক্টোবরজুড়ে দেশব্যাপী প্রায় এক হাজার কর্মসূচি পালন করবে নিরাপদ সড়ক চাই। সড়ক নিরাপত্তাকে শুধু পরিবহন খাতের বিষয় হিসেবে না দেখে জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, শিক্ষা ও জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ও দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ। এতে বলা হয়, এবারের জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের প্রতিপাদ্য নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। দিবসটি ঘিরে কেন্দ্রীয় ও শাখা পর্যায়ে সচেতনতামূলক, প্রশিক্ষণমূলক ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
মহাসচিবের বক্তব্যে নিসচার ৩৩ বছরের আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে বলা হয়, দীর্ঘ আন্দোলন, জনমত সৃষ্টি ও আইনি প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছে। সংগঠনটি মনে করে, এ দিবসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও মানুষের প্রত্যাশা জড়িয়ে থাকায় এর ইতিহাস ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে সড়ক নিরাপত্তার প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। নিসচার মতে, সড়কে প্রাণহানিকে শুধু চালকের ভুল হিসেবে দেখলে সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান সম্ভব নয়। সড়ক, যানবাহন, চালক, পথচারী, আইন প্রয়োগ ও দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবার দুর্বলতাসহ পুরো ব্যবস্থাকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
এ জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা রোডম্যাপ প্রণয়ন, সমন্বিত সড়ক দুর্ঘটনা তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, নিরাপদ যানবাহন ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছে নিসচা।
নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আজাদ হোসেন বলেন, অক্টোবর মাসের কর্মসূচি শেষ হলেও সড়ক নিরাপত্তার কার্যক্রম থেমে থাকা উচিত নয়। সড়কে একটি প্রাণহানি শুধু একটি সংখ্যা নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং অসংখ্য মানুষের জীবন জড়িয়ে থাকে। তাই সড়ক নিরাপত্তাকে কেবল পরিবহন ব্যবস্থার সমস্যা হিসেবে না দেখে জাতীয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনসচেতনতার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বিস্তার প্রয়োজন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বতন্ত্র সড়ক নিরাপত্তা ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন করা সম্ভব হবে।
এস এম আজাদ হোসেন আরও বলেন, নিসচা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, চিকিৎসা ও জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষকে একই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিসচার একটি প্রতিনিধি দল সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইনসহ ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলে নিসচার প্রতিনিধিত্ব, সরকারি সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমে সংগঠনটিকে সম্পৃক্ত করা, মহাসড়কে জরুরি সাড়া প্রদানকারী ইউনিট, পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স ও আঘাতপ্রাপ্তদের চিকিৎসাকেন্দ্র এবং জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা রোডম্যাপ প্রণয়নের প্রস্তাব রয়েছে।
অক্টোবর মাসে চালকদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা, সড়ক প্রচারাভিযান, বৃক্ষরোপণ, শোভাযাত্রা, লিফলেট বিতরণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কতামূলক চিহ্ন স্থাপন, অবৈধ স্থাপনা অপসারণের দাবিতে কার্যক্রম, মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে হেলমেট বিতরণ, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।
২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে মরহুমা জাহানারা কাঞ্চনের কবর জিয়ারত ও দোয়া, বিকেলে শোভাযাত্রা এবং সন্ধ্যায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন থাকবে। দেশের ১২৩টি শাখার মাধ্যমে এসব কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে আরও কর্মসূচি পালন করা হবে।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, পরিকল্পিত ব্যবস্থা, নিরাপদ সড়ক ও যানবাহন, দক্ষ চালক, কার্যকর আইন প্রয়োগ, নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিত করা গেলে সড়কে প্রতিরোধযোগ্য প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এ লক্ষ্যেই সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানায় নিসচা।

নিরাপদ সড়ক,নিসচা,সড়ক নিরাপত্তা


এ জাতীয় আরো খবর