সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬

মহেশখালী থেকে রাখাইন রাজ্যে পাচারকালে ইউরিয়া সার ও এনার্জি ড্রিংক জব্দ,মাফিয়া ডনসহ গ্রেপ্তার ৬

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের
  • ২০২৫-০৬-১৪ ১৭:০৩:৩৩

মহেশখালী কক্সবাজার শনিবার ১৪ জুন ২০২৫ 
মহেশখালী উপজেলা কুতুবজোম ইউনিয়নের তাজিয়া কাটা নৌ-ঘাট  থেকে  মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পাচার কালে প্রায়  ৮ লাখ টাকার  ২৯১  বস্তা  ইউরিয়া সার ও  ৯  হাজার ৭২টি  ‘রয়েল টাইগার’  এনার্জি ড্রিংকসসহ  মহেশখালী মাফিয়া ডন হিসাবে পরিচিত মোঃ  নুর ও  খায়রুল  আমিন  মাঝিসহ  ৬ জন পাচার কারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
আটককৃতরা হলেন- কুতুবজোম ইউনিয়নের তাজিয়া কাটা  এলাকার  করিমুল্লাহ  পুত্র  অন্ধকার   জগতের মাফিয়া ডন বহু অপকর্মের হুতা মোহাম্মদ নূর প্রকাশ বার্মাইয়া   মাআন্নুর (৩৫),  তার   সহযোগী   ঘটিভাঙ্গা এলাকার সের আলীর পুত্র খায়রুল আমিন মাঝি(২৮) জাহেদ  হোসেনের   পুত্র   মোঃ   তারেক   (১৭),  আবু তাহেরের পুত্র  মোঃআরাফাত (১৯),মোঃআলীর ছেলে মোঃ ফারুক  (২১)  এবং  আব্দুর  রশিদের  পুত্র  মোঃ সাদ্দাম   (২০),  আটককৃতরা    সকলেই   মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের বাসিন্দা।
শনিবার (১৪ জুন)  সকালে  কোস্ট   গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ জানান-
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৩ জুন শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে কোস্ট গার্ডের ১টি দল পর্যটন নগরী  কক্সবাজার   নাজিরারটেক সংলগ্ন সমুদ্র  এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। 
অভিযানের সময় ১টি  সন্দেহজনক  ইঞ্জিনচালিত কাঠের  বোটকে   থামার  সংকেত দেয়া হলে সেটি দ্রুতগতিতে গভীর সমুদ্রের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।   পরে  ঘণ্টাব্যাপী  ধাওয়া  করে বোটটি
 আটক করা হয়। তল্লাশিতে ৭ লাখ ৮১ হাজার ৪১০ টাকা মূল্যের ২৯১ বস্তা ইউরিয়া সার ও ৯ হাজার ৭২টি  রয়েল টাইগার ড্রিংকস পাওয়া যায়। 
পরবর্তীতে জব্দকৃত সার ও এনার্জি ড্রিংক্স কক্সবাজার কাস্টমস  এবং   আটক   পাচারকারী ও পাচার  কাজে ব্যবহৃত   বোট   কক্সবাজার   মডেল   থানায়   হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সরজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় -কুতুবজোম   ইউনিয়নের  তাজিয়াকাটা নৌ-ঘাট এখন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায়  
রাখাইন   রাজ্যে   মায়ানমারের   সাথে সরাসরি অবৈধ চোরাচালানের    নিরাপদ  ওপেন    ট্রানজিটে  পরিণত হয়েছে। 
সরকারি  রাজস্ব  ফাঁকি দিয়ে  স্থানীয়  জনপ্রতিনিধি  ও রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় একটি চিহ্নিত সিন্ডিকেট অন্ধকার  জগতের   মাফিয়া   ডন  বহু  অপকর্মের হুতা মোহাম্মদ   নূর  প্রকাশ  বার্মাইয়া   মাআন্নুর   (৩৫), তার সহযোগী ঘটিভাঙ্গা এলাকার সের আলীর পুত্র খায়রুল আমিন  মাঝি(২৮)  ও নুর  এর ভাই সেলিম কে ব্যবহার করে কুতুবজোমের    নৌ-ঘাট     গুলোকে    অঘোষিত করিডোর  নিরাপদ  চ্যানেল  হিসেবে বছরের পর  বছর যাবত অবৈধ  চোরাচালানের   ট্রানজিট   ব্যবহার করে আসছে স্থানীয়  জনপ্রতিনিধি  ও  রাজনৈতিক  নেতার ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা একটি শক্তি শালি সিন্ডিকেট।
উক্ত সিন্ডিকেট মোঃ নুর ও খায়রুল আমিন মাঝি ও মোঃ নুর এর ছোট ভাই সেলিম এর মাধ্যমে  চট্টগ্রাম থেকে  সার,  সিমেন্ট, অকটেন,  তৈল,   জন্মনিয়ন্ত্রণ ঔষধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যে লোড নিয়ে নোঙর করে ঘটিভাংগা ও সোনাদিয়ার পশ্চিম সাগরে। 
সেই বোটে ডিজেল আর অকটেন লোড নিয়ে মাঝি বদলে পাড়ি দেয় বার্মার উদ্দেশ্যে। বার্মায় মালামাল নামিয়ে ইয়াবা, কারেন্ট জাল ও মদের বোতল নিয়ে আসে কুতুবজোম ঘাটে। 
পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্বে বাংলাদেশর বিভিন্ন এলাকায় চালান  করে এই অবৈধ যুব ধ্বংসকারী ইয়াবা। 
বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায়
ঘটিত উক্ত  সিন্ডিকেটের গডফাদার। 
সচেতন মহলের দাবী, বার্মাইয়া মাফিয়া ডন  মাম্মদ নুর'কে  রিমান্ডে   এনে  তার ব্যবসায়িক পার্টনার ও গডফাদার কে  চিহ্নিত  করে  অপকর্মের  বিস্তারিত জাতীয়ভাবে প্রকাশ করা হোক।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ বলেন-
দেশের  আইনশৃঙ্খলা   পরিস্থিতি  স্থিতিশীল  রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ২৪ ঘণ্টা টহল জারি রেখেছে।
যার  মাধ্যমে  কোস্ট গার্ডের  আওতাধীন  উপকূলীয়  এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
ও চোরাচালান রোধ অনেকাংশে উন্নত হয়েছে। চোরাচালান রোধকল্পে কোস্ট গার্ড কর্তৃক ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 


এ জাতীয় আরো খবর