ঢাকা- ১৩ জুন ২০২৫
সৌদি আরবে হজ পালন করতে গিয়ে একই দিনে তিনজন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ জুন) মক্কা ও আশপাশের এলাকায় মারা যান লালমনিরহাটের আমির হামজা, ময়মনসিংহের মো. মনিরুজ্জামান (৬৬) এবং নোয়াখালীর চাটখিলের খাতিজা বেগম (৪১)। তাদের মৃত্যু তথ্য নিশ্চিত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টাল।
এই তিনজনসহ চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে মোট ২৬ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হলো। এর মধ্যে ২৩ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। বেশিরভাগ মৃত্যুই ঘটেছে শারীরিক অসুস্থতা, উচ্চ তাপমাত্রা এবং দীর্ঘ যাত্রাজনিত ক্লান্তির কারণে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র অনুযায়ী, মক্কায় মারা গেছেন ১৭ জন, মদিনায় ৮ জন এবং আরাফায় ১ জন। মৃতদের বেশিরভাগেরই বয়স ৫৫ বছরের বেশি। অতিরিক্ত শারীরিক চাপ, সৌদি আরবের গরম আবহাওয়া এবং ভ্রমণের ধকল-এসব কারণই মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
চলতি হজযাত্রায় ২৯ এপ্রিল থেকে ১২ জুন পর্যন্ত যেসব বাংলাদেশি হাজি মারা গেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন:
২৯ এপ্রিল: রাজবাড়ীর মো. খলিলুর রহমান (৭০)
২ মে: কিশোরগঞ্জের মো. ফরিদুজ্জামান (৫৭)
৫ মে: পঞ্চগড়ের আল হামিদা বানু (৫৮)
৭ মে: ঢাকার মো. শাহজাহান কবির (৬০)
৯ মে: জামালপুরের হাফেজ উদ্দিন (৭৩)
১০ মে: নীলফামারীর বয়েজ উদ্দিন (৭২)
১৪ মে: চট্টগ্রামের মো. অহিদুর রহমান (৭২)
১৭ মে: গাজীপুরের মো. জয়নাল হোসেন (৬১)
১৯ মে: চাঁদপুরের আ. হান্নান মোল্লা (৬৩)
২৪ মে: রংপুরের মো. সাহেব উদ্দিন
২৫ মে: চাঁদপুরের বশির হোসাইন (৭৪)
২৭ মে: চাঁদপুরের শাহাদাত হোসেন
২৯ মে: জয়পুরহাটের মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৫৩), মাদারীপুরের মোজলেম হাওলাদার (৬৩), গাজীপুরের আবুল কালাম আজাদ (৬২)
১ জুন: গাজীপুরের মো. মফিজ উদ্দিন (৬০), নীলফামারীর মো. জাহিদুল ইসলাম (৫৯)
৫ জুন: ঢাকার মনোয়ারা বেগম মুনিয়া
৬ জুন: খুলনার শেখ মো. ইমারুল ইসলাম
৭ জুন: নোয়াখালীর মো. মুজিব উল্যা
৯ জুন: গাইবান্ধার খায়রুল বাসার মন্ডল
১০ জুন: সিরাজগঞ্জের গোলাম মোস্তফা
১২ জুন: লালমনিরহাটের আমির হামজা, ময়মনসিংহের মো. মনিরুজ্জামান (৬৬), নোয়াখালীর খাতিজা বেগম (৪১)
২০২৫ সালের হজযাত্রীদের সৌদি আরব যাত্রার প্রথম ফ্লাইট শুরু হয় ২৯ এপ্রিল, শেষ ফ্লাইট ছিল ৩১ মে। আর ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে ১০ জুন থেকে, যা শেষ হবে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজযাত্রীদের শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করে হজে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বয়স্ক ও অসুস্থদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হজ মিশন ও মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক হাজিদের পাশে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি আরবের অত্যন্ত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের ফলে বয়স্ক হাজিদের জন্য শারীরিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের সমস্যা থাকে, তাদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি।
সাবধানতা ও সচেতনতার সঙ্গে হজ পালন করাই হতে পারে এমন মৃত্যুর হার কমানোর উপায়। ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের উচিত বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে হজে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া।