আজ দুদিন ধরে আকাশের মুখ ভার। কেমন ছলছলে চোখে চেয়ে আছে। তার ঘন কালো শূন্য দৃষ্টির মধ্যে কি এক নিবিড় বেদনা প্রচ্ছন্ন রয়েছে! অস্ফুট তার ভাষা, অব্যক্ত তার প্রকাশ, অস্পষ্ট তার উচ্চারণ!
আসলে মেঘ বড়ো অভিমানী। শত শত স্মৃতির পাহাড় জমে থাকে মেঘে। সময় হলে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি হয়ে নেমে আসে মাটির কাছে ধরা দেবে বলে, অনেকটা সমর্পনের ভঙ্গিতে।
শুনছি এবার বর্ষা তার কৃষ্ণঘন এলো চুল সময়ের আগেই বিছিয়ে দিয়েছে এ শহরের বুকে। ক্ষণে ক্ষণে বৃষ্টির ধারা ক্লান্ত হয়ে আসছে আবার দমকা হাওয়া তাকে মাতিয়ে তুলছে। সমস্ত শুষ্কতা, রুক্ষতাকে শুষে নেওয়ার এ যেন এক পরম মহোৎসব!
কিছুদিন আগে গিয়েছিলাম পাহাড়ে। সেখানেও স্তবকে স্তবকে ঘনিয়ে ওঠা স্তম্ভিত মেঘে মনটা কেবলই ভিজে ভিজে উঠছিল। শ্রেণীবদ্ধ বৃক্ষচ্ছায়াঘেরা আঁধার আঁধার গ্রামগুলি বৃষ্টির দিনে ছিল ডানাভেজা পাখির মতোই জড়োসড়,স্থবির।
তবে পাহাড়ে বৃষ্টির এক ধূসর সৌন্দর্য আছে। বৃষ্টির ধোঁয়া ওঠা পথ যেন জীবনের সমস্ত ব্যস্ততার সমাপ্তি একটিমাত্র রেখায় আঁকে। জলের ভাষায়, হওয়ার কণ্ঠে সে রেখায় সূচিত হয় সৃষ্টির আদি বাণী।
আবার রাত্রে বৃষ্টির পরে, প্রথম সকালে, সামনের পাহাড়ের চূড়ায় যখন দেবদারু গাছের ফাঁক দিয়ে কাঁচা সোনা রংয়ের রোদ্দুর এসে পড়ে তখন ভৈরবীর সুরে রচিত হয় বাদলশেষের ইন্দ্রধনু।
আজ মেঘলা রাতে, বৃষ্টির কলশব্দে শুনতে পাচ্ছি সেই সুরেরই কড়া নাড়া। সেই ডাকে সাড়া দিয়েই বিরহিনী যক্ষিণীর মত জানতে চাইছি, ''ওগো মেঘ, তুমি উড়ে যাও কোন ঠিকানায়, কে তোমায় নিয়ে যায় দূর অজানায়, বলোনা আমায়।''