সে ছিলো এক ছোট্টো দোয়েল পাখি
গানের সুরে ঘুম ভাঙাত ভোরের বেলা ডাকি।
এটাই ছিলো বেশ,
নিয়ে সুরের রেশ
ঘুম ভাঙতো শহরগ্রামের
সাগর- নদী - দেশ।
একটা ছিলো শালিখ
ঝগড়ুটে হিংসুটে
চেরা গলায় সুর ছিলোনা মোটে
আঁটলো সে এক ফন্দী
প্রেমের ছুতোয় দোয়েল পাখির
মনকে করবে বন্দী।
ভাবা মাত্রই কাজ
লিখলো চিঠি ছন্দে ভরে
ভালোবাসার মোড়কে মুড়ে
সেই চিঠিকে পরিপাটি করলো আটটি ভাঁজ।
ডানার হাতে চিঠি নিয়ে
দুই পায়েতে হেঁটে
চললো শালিখ যেখানে দোয়েল
দোল খায় ছোট্ট দোলায় চেপে।
চিঠি ধরে রাজার মতো
জানা ছিলো কায়দা যতো
শালিখ এসে কিচিরমিচির করে
বললো -- দোয়েল বন্ধু আমার
এ মন আমার দেবো উপহার
নাওগো আমায় সঙ্গী করে
ঘুম ভাঙানি ভোরে।
দুজনে মিলে ঐকতানে
সুরে সুরে গানে গানে
প্রভাতবেলায় ধরবো মোরা তান
তা,না হলে রাখবোনা এই প্রাণ।
ওইদিকে এক ফিঙে
বহু আগেই খেয়েছে সেটা ক্রাশ
দোয়েল পাখির গানে
ঝাঁপিয়ে এসে পড়লো ঘাড়ে
-- কে রে আমার প্রিয়াকে কাড়ে
আমি থাকতে দোয়েল প্রিয়ার
কেউ রবেনা, ব্যাস।
সে কি ভীষণ চুলোচুলি
কত পালক গেলো ছিঁড়ে
শুধুমাত্র প্রেমকে ঘিরে
সে কথা আর যাবেনা বলা খুলি
এই সুযোগে ছোট্ট দোয়েল
দেখালো তার খেল
চাইলো বিচার চিলের কাছে
নিয়ে সুরের বুলি।
তারপর যে কী হলো তা
ছিলোনা লেখা গানের খাতায়
তবে একটা কথা এখনও সবাই জানে
শালিখ ফিঙে সবারই প্রভাত
এখনও আসে আমাদের সে
দোয়েলপাখির গানে।