মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

ঈদের আগেই শোক: লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর করুণ মৃত্যু

  • নিজস্ব প্রতিবেদক,
  • ২০২৫-০৬-০৫ ২০:২০:০০

লক্ষ্মীপুর, ৫ জুন ২০২৫
ঈদুল আজহার আনন্দ এখনও দোরগোড়ায় এসে পৌঁছায়নি। তবু বাড়ির উঠানে কোরবানির গরু বাঁধা হয়েছে, শিশুরা হাসিমুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঠিক এমন মুহূর্তেই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হলো লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের এক পরিবার-যেখানে একসঙ্গে প্রাণ গেল আপন দুই চাচাতো ভাইবোনের।
মাত্র দুই বছরের খাদিজা আক্তার ও তাফসির হোসেন-জীবনের শুরুতেই পুকুরের পানিতে ডুবে নিথর হয়ে গেল ছোট দুটি দেহ। বৃহস্পতিবার দুপুরে চরশাহী গ্রামের কমর উদ্দিন পাটওয়ারী বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত খাদিজা ওই বাড়ির মো. শাহজাহানের মেয়ে এবং তাফসির তার ভাই ইমরান হোসেনের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘরের উঠানে থাকা কোরবানির গরু ঘিরেই ছিল তাদের আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। কিন্তু ঈদের খুশি যে পরিণত হবে নিস্তব্ধ কান্নায়-তা কেউ ভাবেনি।
শিশুদের চাচা বাবলু পাটওয়ারীর গলা কাঁপছিল, চোখ ছিল লাল। কাঁপা কণ্ঠে বলেন, “ঈদের আগেই আমাদের ঘরে শোক নেমে এলো। খাদিজা আর তাফসিরের মা এখনো বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। কেউ তাদের সান্ত্বনা দিতে পারছে না।”
বাড়ির উঠানে তখনো কোরবানির গরুটি বাঁধা। কিন্তু চারপাশে নীরবতা। কান্নার শব্দ ছাড়া কিছুই শোনা যায় না।
স্থানীয়রা জানান, বাড়ির সবাই ঈদ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন। শিশু দুটো গরু দেখে খুশিতে দৌড়াদৌড়ি করছিল। হঠাৎ তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রথমে মনে করা হয়, হয়তো আশপাশেই খেলছে। কিন্তু ঘণ্টাখানেকের খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পাশের পুকুরে দুই শিশুর মরদেহ ভেসে ওঠে।
তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে চন্দ্রগঞ্জের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম বলেন, “এমন কোনো তথ্য আমাদেরকে কেউ জানায়নি। আমরা খোঁজ নিচ্ছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় পুকুরগুলোর চারপাশে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। শিশুরা অনায়াসেই পুকুরঘাটে চলে যেতে পারে। ফলে প্রায় প্রতিবছরই ঘটছে এ ধরনের দুর্ঘটনা। তবে সচেতনতা কিংবা প্রতিরোধ-কোনোটাই নেই।
ঈদের নতুন জামা আর গরুর খুশি ছেড়ে এখন দুইটি কফিনে শুয়ে আছে খাদিজা আর তাফসির। তাদের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে একসাথে দুটি কবর। একটি বাড়ি, দুটি পরিবার এবং গোটা একটি গ্রাম এখন শুধুই কান্নায় ভাসছে।
স্থানীয় এক বৃদ্ধ বলেন, “ঈদের আগে এমন শোক দেখিনি বহু বছর। আল্লাহ যেন আর কোনো পরিবারকে এমন ক্ষতি না দেখায়।”
পূর্ব প্রস্তুতি না থাকলে শিশুদের একা বাইরে খেলতে না দেওয়ার জন্য পরিবারের প্রতি সচেতনতার আহ্বান জানাচ্ছেন স্থানীয় সমাজকর্মীরা। একইসঙ্গে পুকুর বা জলাশয়ের পাশে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছেন অনেকে।


এ জাতীয় আরো খবর