মিরসরাই, চট্টগ্রাম | ৫ জুন ২০২৫
চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় প্রাণ গেল ২০ বছরের এক তরুণের। মিরসরাইয়ের মস্তাননগরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি ট্রাকের চাপায় মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন আরিফ হোসেন। বুধবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটে এই দুর্ঘটনা।
নিহত আরিফ ছিলেন নাহার এগ্রো গ্রুপের পণ্যবাহী গাড়ির হেলপার (চালকের সহকারী)। তার বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর গ্রামে। বাবার নাম কামাল হোসেন।
বুধবার রাতে সিরাজগঞ্জ থেকে মালামাল সরবরাহ করে মিরসরাইয়ের নাহার এগ্রো গ্রুপ ফ্যাক্টরিতে পৌঁছান আরিফ। দীর্ঘ ভ্রমণের পর গাড়ি থেকে নেমে পাশের হোটেল থেকে রাতের খাবার আনার উদ্দেশ্যে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন তিনি। ঠিক তখনই দ্রুতগতির একটি ট্রাক এসে তাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তরুণ আরিফ।
খবর পেয়ে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাহিম জলিল বলেন, “রাত ১১টার দিকে পুলিশ একটি যুবকের নিথর দেহ নিয়ে আসে। আমরা দ্রুত পরীক্ষা করে বুঝি, তিনি ইতোমধ্যেই মারা গেছেন। পরবর্তীতে পুলিশ মরদেহটি থানায় নিয়ে যায়।”
জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার ইনচার্জ সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “ঘটনাটি আমরা জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে। তবে দুর্ঘটনাকারী ট্রাকটি চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। চেষ্টা চলছে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাকটি শনাক্ত করার।”
তিনি আরও বলেন, “নিহত আরিফ আমাদের প্রাথমিক তথ্যে নাহার এগ্রোর চালকের সহকারী ছিলেন। তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা থানায় এলে নিয়মিত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।”
পারিবারিক সঙ্কট সামাল দিতে মাত্র এক মাস আগে নাহার এগ্রোতে যোগ দেন আরিফ। ভবিষ্যতের আশায় পরিবার থেকে দূরে থাকলেও, আর কখনো ফিরে যাওয়া হবে না তার। মুছাপুর গ্রামের এক গরিব ঘরের আশাবাদী তরুণের জীবন এই শহরের ব্যস্ত সড়কের নিচে থেমে গেল চিরতরে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত সড়কগুলোর একটি হলেও পথচারীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে শিল্প এলাকা ও ফ্যাক্টরি জোনে নেই পর্যাপ্ত ফুটওভার ব্রিজ বা স্লো লেন। আরিফের মতো অনেক শ্রমজীবী মানুষ প্রতিদিন এই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হন, যাদের জীবন থেমে যেতে পারে যে কোনো মুহূর্তে।
সম্পাদকীয় নোট:
সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ না হয়-এমন নীতিগত সংস্কার ও বাস্তব পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে যেন আর কোনো আরিফের পরিবার অপেক্ষায় না থাকে ফিরে আসার জন্য।