কক্সবাজার | ১ জুন ২০২৫ |
বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম গভীর সংকটে পড়েছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ আজ এক জরুরি বিবৃতিতে জানায়, তহবিল সংকটে প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে।
ইউনিসেফ জানায়, চলমান তহবিল ঘাটতির ফলে রোহিঙ্গা শিবিরে থাকা শিক্ষার্থীদের ৮৩ শতাংশের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হতে চলেছে। বর্তমানে যেসব শিশু ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত শিক্ষাকেন্দ্রে পড়ালেখা করে, তাদের প্রায় সবাই এই সংকটের শিকার।
বিবৃতিতে বলা হয়, ৩০ জুন ২০২৫-এর মধ্যে ১১৭৯ জন স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, এবং নতুন তহবিল না এলে তাদের পুনর্নিয়োগ সম্ভব নয়। এই শিক্ষকরা মূলত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “যেসব শিশুদের কথা আমরা বলছি, তারা বিশ্বের সবচেয়ে প্রান্তিক ও অসহায় শিশুদের মধ্যে পড়ে। তাদের শিক্ষা বাঁচাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও জানান, কিছু বিকল্প তহবিল সংগৃহীত হলেও তা পর্যাপ্ত নয় এবং বিলম্বে হাতে আসবে। ফলে, ইউনিসেফকে অনেক “কঠিন ও কষ্টদায়ক” সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
ইউনিসেফের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়:
জুন মাস শেষে সমস্ত শিক্ষা কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে
পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে ইংরেজি, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান পাঠদান স্থগিত থাকবে
নতুন পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক নির্দেশিকা ক্রয় করা হবে না
প্লেসমেন্ট টেস্ট ও বছর শেষের মূল্যায়ন পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে
শিক্ষকরা ছুটির সময়ে পারিশ্রমিক পাবেন না এবং অর্থ না আসা পর্যন্ত তাদের স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ চালাতে হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই তহবিল সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে রোহিঙ্গা শিশুদের একটি পুরো প্রজন্ম শিক্ষার বাইরে চলে যেতে পারে। যা শুধু তাদের ভবিষ্যৎ নয়, শরণার্থী সংকট মোকাবেলার সামগ্রিক কৌশলকেও দুর্বল করে দিতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ইউনিসেফ আন্তর্জাতিক দাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে-দ্রুত শিক্ষা খাতে জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শিশুরা ন্যূনতম শিক্ষা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।