শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

ঢাবিতে প্রকাশ্যে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা,উপাচার্যকে স্মারকলিপি পেশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-২৯ ০২:৪৩:০৪
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন পর সরব হয়ে উঠেছে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা। বুধবার (২৮ মে) সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়ার কথা তুলে ধরে।
ইসলামী ছাত্রী সংস্থার পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না ও সেক্রেটারি আফসানা আক্তারের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন। তারা ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, আবাসন ও মৌলিক সুবিধা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উপস্থাপন করেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা, পর্যাপ্ত নামাজরুম, কমনরুম ও ওজুখানার ব্যবস্থা, মাতৃত্বকালীন সময় সহযোগিতা, আবাসন সংকট নিরসন এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জরুরি প্রয়োজনে হলে প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এছাড়া যৌন হয়রানিমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণ ও মেডিকেল সেবার পরিধি বাড়ানো সংক্রান্ত দাবিও স্মারকলিপিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রতিনিধিদলের বক্তব্য অনুযায়ী, উপাচার্য মনোযোগসহকারে সব দাবি শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
ঢাবি শাখার সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ভয়াবহ নিপীড়নের কারণে ক্যাম্পাসে আমাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পালাবদলের পর আমরা কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় ঢাবিতে কার্যক্রম শুরুর সাহস পেয়েছি। আজকের এই স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে আমরা দৃশ্যমানভাবে ক্যাম্পাসে ফিরেছি।”
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ঢাবি শাখার প্রাথমিক কাঠামো গঠিত হয়েছে এবং শিগগিরই সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করবে।
ঢাবি শাখার সেক্রেটারি আফসানা আক্তার বলেন, “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা ১৯৭৮ সাল থেকে দেশের নানা প্রান্তে নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করে আসছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসেও আমাদের সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অতীতে আমরা ডাকসু নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “বিগত সরকার আমলে আমাদের সংগঠন সবচেয়ে বেশি বাধার মুখে পড়েছিল। তবে আজকের কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা আবারও সংগঠনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাসম্পন্ন পরিবেশ নিশ্চিতে আমরা প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা চাই।”
গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনের পর ইসলামী ছাত্রী সংস্থাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও সংগঠনটি তাদের সাংগঠনিক উপস্থিতি স্পষ্ট করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র রাজনীতির নতুন পটভূমিতে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার প্রকাশ্য সক্রিয়তা ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনগুলোর রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

 


এ জাতীয় আরো খবর