মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬

ইউরোপীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ‘হামাসের পক্ষে অবস্থান’ নেওয়ার অভিযোগ নেতানিয়াহুর

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৫-২৩ ১৫:৪৮:৪৮
ফাইল ছবি

ঢাকা: ২৩ মে ২০২৫
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিস্ফোরক ভিডিও বার্তায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে ‌‌‘হামাসের সহানুভূতিশীল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর ভাষায়, “এতদিনে স্পষ্ট যে, এই নেতারা চাচ্ছেন হামাসই টিকে থাকুক, ইসরায়েলের ধ্বংস নিশ্চিত হোক।”
নেতানিয়াহু এই মন্তব্য করেন সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েলি দূতাবাস কর্মীদের ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশিত ভিডিওতে তিনি কঠোর ভাষায় ইউরোপীয় নেতৃত্বের অবস্থান নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নতুন করে চালানো অভিযানে শত শত ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক হতাহত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক নিন্দা ওঠে।
ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডা ইসরায়েলকে সামরিক হামলা বন্ধ এবং অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে কূটনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে।
এমনকি তারা নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও হুমকি দেয়, যদি ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড না মানে।
এই প্রেক্ষাপটেই নেতানিয়াহু অভিযোগ তোলেন, “যারা হামাসের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থানকে দুর্বল করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে এক গণহত্যাকারী গোষ্ঠীকে রক্ষা করছে।”
নেতানিয়াহু বলেন-“হামাস একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, যারা শিশু হত্যা, গণধর্ষণ ও অপহরণের মতো অপরাধ করেছে।
আজ যেসব নেতারা আমাদের হামলা থামাতে বলছেন, তারা কার্যত এসব অপরাধের পক্ষ নিচ্ছেন।”
তিনি আরও যোগ করেন: “যখন গণহত্যাকারীরা আপনাকে ধন্যবাদ জানায়, তখন বুঝতে হবে আপনি ইতিহাসের ভুল দিকে দাঁড়িয়ে আছেন।”
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য কেবল কূটনৈতিক ভাষার সীমা অতিক্রম করেনি, বরং ইসরায়েল ও ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের টানাপোড়েনকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক ড. হান্না ব্রিজম্যান বলেন: “নেতানিয়াহুর এই কড়া ভাষা ইসরায়েলি কূটনীতির ঐতিহ্য থেকে একধাপ এগিয়ে গেছে।
এটি ইউরোপীয় রাজনীতিতে জটিলতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন গাজার মানবিক পরিস্থিতি প্রশ্নবিদ্ধ।”
তবে ব্রিটিশ বা ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে এখনও নেতানিয়াহুর বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।
বরং ডাউনিং স্ট্রিট এবং এলিসি প্রাসাদ থেকে শোনা যাচ্ছে ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনাই মূল লক্ষ্য’, এবং এ জন্য উভয়পক্ষকে সহনশীল হতে হবে।
এদিকে গাজার পরিস্থিতি ক্রমেই মানবিক বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানায়, খাদ্য, পানি, ওষুধ ও বিদ্যুৎহীন গাজায় বিপন্ন প্রায় ২০ লাখ মানুষ।
বিশেষ করে রাফা শহরে ইসরায়েলি অভিযানে শিশু ও নারীদের মৃত্যুহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
নেতানিয়াহুর এই প্রকাশ্য অভিযোগ শুধু ইসরায়েল-ইউরোপ সম্পর্ককেই নয়, বরং পুরো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
যখন বিশ্ব শান্তির জন্য সংলাপের প্রয়োজন, তখন এই ধরনের বিতর্কিত বক্তব্য আরও সংঘাত ও বিভক্তি সৃষ্টি করতে পারে।

 


এ জাতীয় আরো খবর