সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬

নারী সংস্কার কমিশন বাতিলসহ চার দফা দাবিতে হেফাজতের বিক্ষোভ,বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৫-২৩ ১৫:০২:১৯
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা, ২৩ মে ২০২৫ 
রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকা আজ শুক্রবার আবারো সরব হয়ে উঠেছে ধর্মীয় রাজনৈতিক দাবিদাওয়া ঘিরে বিক্ষোভের দৃশ্যে।
জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর পাশে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর ঢাকা মহানগর শাখা একটি বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে।
বক্তারা দাবি করেন, দেশে চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের নামে ইসলামী মূল্যবোধের ওপর আঘাত হানা হচ্ছে।
বিশেষ করে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া তাদের মতে ইসলামবিরোধী।
হেফাজতে ইসলাম তাদের বিক্ষোভে চারটি মূল দাবি তুলে ধরে:
নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে
শাপলা চত্বর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত ‘গণহত্যার’ বিচার করতে হবে
হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার করতে হবে
ফিলিস্তিন, কাশ্মীর এবং ভারতের মুসলিমদের ওপর ‘গণহত্যা’ বন্ধে সরকারের অবস্থান আরও কঠোর করতে হবে

হেফাজতের নেতারা বলেন, “নারী অধিকার নয়, এই কমিশনের মাধ্যমে ইসলামবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।”
তারা কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো সংস্কার জনগণ মানবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
হেফাজতের সমাবেশ শেষে একই স্থানে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ নামক একটি সংগঠনের নেতাকর্মীরাও বিক্ষোভে যোগ দেন। তারা কাশ্মীর, ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা জনগণের স্বাধীনতার দাবিতে মিছিল ও শ্লোগান দেন।

এ সময় তাদের হাতে দেখা যায়-
“ইনসাফ চাই, জুলুম চাই না”,
“নারী নয়, ইসলাম-শাসন চাই”,
“ফিলিস্তিনের রক্ত বৃথা যাবে না”
লেখাসংবলিত পোস্টার ও ব্যানার।

বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সমাবেশ ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটলেও উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পরিস্থিতি আমরা নজরে রেখেছি। কেউ আইন হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বর্তমান সরকার যখন নারী অধিকার, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন ধর্মীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।
বিশেষ করে হেফাজতে ইসলাম একে ‘আধুনিকতার নামে ইসলামবিরোধী সংস্কার’ বলে আখ্যা দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “এই ধরনের বিক্ষোভ কেবল ধর্মীয় আবেগ নয়, এটি নতুন সরকারকে চাপে ফেলতেও একটি কৌশল হতে পারে।”
হেফাজত নেতারা সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন: “এই কমিশন বাতিল না করা হলে, আগামী দিনে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”
তারা দাবি করেন, “একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নারীর নাম করে ইসলামবিরোধী আখ্যান তৈরি করতে চায়।”
আজকের বিক্ষোভ নতুন করে আবারও স্পষ্ট করল, বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়াকে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সমন্বয় করা না গেলে সংঘর্ষময় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সরকারকে এখন দুই ফ্রন্টে চলতে হচ্ছে-একদিকে ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল এজেন্ডা, অন্যদিকে ধর্মীয় গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান চাপ।


এ জাতীয় আরো খবর