সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬

তেলআবিবে ফের ব্যালিস্টিক তাণ্ডব: ইয়েমেনি হামলায় আতঙ্ক,স্থগিত বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৫-২২ ১৬:১৩:৪৫
ছবি সংগৃহিত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর সাম্প্রতিক এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) ভোরে ইসরাইলের রাজধানী তেলআবিবের আকাশে এক বিশাল শব্দে কেঁপে ওঠে আকাশপথ-যেখানে ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্র ঢুকে পড়ে আশেপাশের অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, তেলআবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে সব ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, হামলার ধাক্কায় মধ্য ইসরাইলে জরুরি সাইরেন বেজে ওঠে। এতে সাধারণ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে দৌঁড়াতে শুরু করে।
ইসরাইলি জরুরি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আতঙ্কে পালানোর সময় একজন ইসরাইলি নাগরিক আহত হন।
ইসরাইলি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ঘটনার লাইভ আপডেট দিতে থাকায় মুহূর্তেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে খবর। তেলআবিবে আতঙ্কিত নাগরিকরা রাতভর অনিশ্চয়তায় কাটায়।
অন্যদিকে ইয়েমেনের হুথি-সমর্থিত সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরাহ জানায়, এটি ছিল তাদের ‘অধিকৃত ভূখণ্ডে পাল্টা প্রতিরোধমূলক সামরিক পদক্ষেপের অংশ’। তাদের দাবি, এই হামলা ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবে ‘বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা’।
টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তারা ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝপথেই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। তবে এই ঘটনায় ইসরাইলের ভেতরে আতঙ্ক ও ভোগান্তি এড়ানো যায়নি। বিশেষ করে বিমান চলাচল স্থগিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট যাত্রীদের মধ্যে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল ইয়েমেনি বাহিনীর এক কৌশলগত বার্তা। ইসরাইলের অভ্যন্তরে সরাসরি এভাবে হামলা চালানো কেবল সামরিক নয়, রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। ইয়েমেনি হুথি বাহিনী গত এক মাসে একাধিকবার ইসরাইলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এই হামলা আবারও প্রমাণ করেছে, গাজা যুদ্ধের ছায়া মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রান্তেও পড়ছে। ইয়েমেন, লেবানন, ইরাকসহ একাধিক অঞ্চলে ইসরাইলবিরোধী শক্তিগুলোর কার্যক্রম বাড়ছে। তেলআবিবে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশ, আকাশে সাইরেন বেজে ওঠা এবং জনগণের মাঝে আতঙ্ক-সবই ইঙ্গিত দেয় যে, যুদ্ধের মানচিত্র এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।

 


এ জাতীয় আরো খবর