বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১১, ২০২৬

ইশরাককে শপথ না করালে ঢাকায় ‘সিটি সেবা’ অচল করার হুঁশিয়ারি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-২০ ১৭:৩০:২৬
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিলে নগরের সব ধরনের নাগরিক সেবা বন্ধ করে দেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন তার সমর্থকরা। মঙ্গলবার (২০ মে) বিকেলে নগর ভবনের সামনের বিক্ষোভস্থলে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সাবেক সচিব মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে জানানো হয়—বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ সংযোগসহ ডিএসসিসির ২৮ ধরনের সেবা স্থগিত থাকবে।
এ সময় ডিএসসিসির কর্মচারী ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারাও আন্দোলনে সংহতি জানান এবং ঘোষণা দেন, “জনগণের রায় অনুযায়ী মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানো হলে আমরাও কর্মবিরতিতে যাব।”
এরই মধ্যে নগর ভবনের প্রধান ফটকের সামনে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী মঞ্চ, যেখানে চলছে জাতীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গান।
গত সপ্তাহ থেকে চলমান এই আন্দোলনের কারণে নগর ভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, অনেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা পেতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ২৭ মার্চ ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল একটি রায়ে ইশরাক হোসেনকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করেন। এরপর নির্বাচন কমিশন ২৭ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র হিসেবে ঘোষণা দেয়।
তবে সরকার এখনো তার শপথের ব্যবস্থা করেনি, বরং বিষয়টি নিয়ে নীরব ভূমিকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।
সাবেক সচিব মশিউর রহমান বলেন, “এই লড়াই কেবল ইশরাক হোসেনের জন্য নয়, এটা জনগণের ভোটের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই। যদি বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে সিদ্ধান্ত না আসে, আমরা ঢাকাকে পুরোপুরি অচল করে দেব।”
তিনি আরও বলেন, “একটি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর নির্বাচন কমিশনের গেজেট—এই দুটি বিষয়ই যথেষ্ট ছিল একজন মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অবজ্ঞা করছে।”
ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতা বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা সাধারণ কর্মচারী। কিন্তু যখন বিচারিক রায় ও গেজেট উপেক্ষিত হয়, তখন আমাদেরও দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। আগামীকাল ১০টার পর আমরা কোনো সেবা কার্যক্রমে অংশ নেব না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন ঢাকার হৃদয়ে একটি বড় চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রকাশ্যে আন্দোলনে একাত্মতা জানানোর ঘটনা সাধারণত বিরল।
রাজনীতিতে চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই এই ধরনের সাংবিধানিক বিতর্ক ও প্রশাসনিক অস্থিরতা রাজপথে আরও উত্তেজনা ছড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ঢাকা দক্ষিণের একজন বাসিন্দা বলেন, “রাজনৈতিক বিতর্ক তো লেগেই আছে। কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষ এই সেবাগুলো না পেলে যে দুর্ভোগে পড়ি, সেটা কেউ দেখে না। সরকার যদি আদলতের রায় মানে না, তাহলে আমরা কার কাছে যাব?”
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে ইশরাক হোসেনের শপথ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক নির্দেশনা এখনো আসেনি। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন,
"সময় ফুরাচ্ছে-এরপর আর পেছনে ফেরার সুযোগ থাকবে না।"
বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে যদি কোনো অগ্রগতি না হয়, তাহলে ঢাকা দক্ষিণের নাগরিকরা ব্যবস্থাপনা, সেবাব্যবস্থা ও জনজীবনে বড় ধরনের ব্যাঘাতের মুখোমুখি হতে পারেন।

 


এ জাতীয় আরো খবর