শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬

নানকসহ সাবেক দুই মন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ীসহ ২০ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক,
  • ২০২৫-০৫-১৮ ২৩:৫৬:০০
ফাইল ছবি

ঢাকা | ১৮ মে ২০২৫
রাজনীতিক থেকে শিল্পোদ্যোক্তা-বিতর্কিত আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতির অভিযোগে জড়িয়ে থাকা সাবেক পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এবিএম তাজুল ইসলামসহ মোট ২০ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত।
রোববার (১৮ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিব দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পৃথক তিনটি আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এই আদেশের ফলে তাদের কেউই আইনগত অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ ত্যাগ করতে পারবেন না।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের তালিকায় আছেন রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ ছাড়াও দেশের গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতের বেশ কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ী ও ব্যাংক কর্মকর্তা। এদের মধ্যে আছেন:
সৈয়দা আরজুমান বানু – নানকের স্ত্রী
এস আমরীন রাখী – নানকের মেয়ে
রানা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ আবসার – প্রিমিয়ার ব্যাংকের মহাখালী শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক
শাহিদা হোসেন ও শাহাদাৎ হোসেন শামীম – টিএনজি গ্রুপ
মো. শফিকুর রহমান – ম্যাক্সিম এক্সপো এ্যাপারেল
গোলাম কিবরিয়া ও পরিবারের সদস্যরা – অলিম্পিক ফ্যাশন
হারুন অর রশীদ ও নাসিমা রশীদ – টিআরজেড গার্মেন্টস
হোসেন খান ও হুমায়ুন কবীর সেলিম পরিবার – খান টেক্স ফ্যাশন
ফিরোজ আহমেদ ও মো. খায়ের মিয়া – এ্যাপারেলস লিমিটেড
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, এবং প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দেশত্যাগ নিষেধাজ্ঞা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার মধ্যকার ঘনিষ্ঠ যোগসাজশ তদন্তের অংশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা বলেন, “সম্প্রতি বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন ও সম্পদ গঠনের তদন্তে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবমুক্ত রাখতে দেশত্যাগ ঠেকানো প্রয়োজন ছিল।”
জাহাঙ্গীর কবির নানক এক সময় ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের একজন ছিলেন। আর ক্যাপ্টেন এবিএম তাজুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এ দুজনের নাম একইসাথে একটি দুর্নীতির তদন্তে আসা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নৈতিকতার প্রশ্ন নতুন করে উত্থাপন করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “এক সময়ের প্রভাবশালী মন্ত্রীর পরিবার-পরিজনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার চাইছে—কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এই বার্তাটি দিতে।”
দুদকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশত্যাগ নিষেধাজ্ঞা প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র। পরবর্তী সময়ে অভিযোগের সত্যতা মিললে সম্পদ জব্দ, চার্জশিট এবং আদালতে মামলার মতো ধাপগুলো অনুসরণ করা হবে।
এদিকে, নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
✅ সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
আদেশের তারিখ: ১৮ মে ২০২৫
আদালত: মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা
মামলার উৎস: দুদকের ৩টি পৃথক আবেদন
নিষেধাজ্ঞার ধরন: বিদেশ যাত্রা নিষিদ্ধ
আসামির সংখ্যা: ২০ জন
অভিযোগ: অর্থপাচার, দুর্নীতি, ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি

 


এ জাতীয় আরো খবর