সাতক্ষীরা | ১৮ মে ২০২৫
খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নিজেদেরই খবর হয়ে গেলেন তাঁরা। সাতক্ষীরায় ৩৫ জন সাংবাদিককে বহনকারী একটি বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে, তবে অলৌকিকভাবে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন সবাই। আজ রোববার (১৮ মে) বিকেলে সাতক্ষীরা-খুলনা সড়কের মির্জাপুর বাজার সংলগ্ন ইসলামকাটি মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিকেরা ঢাকায় ফিরছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সাতক্ষীরার কর্মসূচি কাভার করে। ফেরার পথে হালকা বৃষ্টিতে পিচ্ছিল রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি উল্টে পাশের খাদে পড়ে যায়। যদিও হতাহতের কোনো খবর নেই, তবে কয়েকজন সামান্য আঘাত পেয়েছেন।
পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাইনউদ্দীন গণমাধ্যমকে জানান, “বাসটি রাস্তা পিচ্ছিল থাকায় উল্টে যায়। তবে বড় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।”
বাসটিতে থাকা ঢাকার সাংবাদিক মো. মুক্তাদির রশিদ রোমিও দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে তার ফেসবুকে লেখেন,
“ঘাড়ে আঘাত পেয়েছি। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে, তাই সবার ফোন ধরতে পারছি না। দোয়া করবেন। মনে হচ্ছে, আবারও মৃত্যু কাছ থেকে ফিরে এলাম।”
তিনি আরও লেখেন, “স্থানীয় চালকরা বলছেন, পর্যাপ্ত পাথর কুচির অভাবে বৃষ্টিতে এই রাস্তায় প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইসলামকাটি মোড়ের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ।”
প্রাণে বেঁচে গেলেও এ ঘটনা সাংবাদিকদের চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একদিকে বেহাল সড়ক, অন্যদিকে চালকদের অসচেতনতা মিলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে-বলছেন দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা একজন জ্যেষ্ঠ ফটোসাংবাদিক।
সাতক্ষীরায় স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, ইসলামকাটি মোড় ও মির্জাপুর বাজার এলাকায় প্রায়ই গাড়ি উল্টে খাদে পড়ে এমন ঘটনা ঘটে। অথচ যথাযথ মেরামত বা সড়ক সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের মানুষ ছুটে এসে সাংবাদিকদের উদ্ধার করে। স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, “বিকট শব্দে আমরা দৌঁড়ে আসি। গাড়িটা একেবারে উল্টে গেছিল। ভাবিনি এত মানুষ অক্ষত থাকবে।”
একজন আহত সাংবাদিক বলেন, “আমরা পেশাগত দায়িত্বে বাইরে ছিলাম, কিন্তু এমন মৃত্যু ভয় নিয়ে ফিরব ভাবিনি। এই দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সড়কে কেউ নিরাপদ নয়।”
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বারবার হুঁশিয়ারি দিলেও স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক বিভাগ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে-বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃষ্টির সময় এই সড়কে দ্রুতগামী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, জরুরি সড়ক সংস্কার ও পাথরকুচি ছিটানো, এবং সংকেতচিহ্ন বসানো-এসব এখনই না করলে বড় কোনো ট্র্যাজেডি এড়ানো যাবে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।