মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের শিথিলতায় জনমনে উদ্বেগ: 'ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে টালবাহানা চলছে'-ফরহাদ মজহার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-১৭ ০০:৫২:৩৯
ছবি সংগৃহিত

জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের 'গড়িমসি ও শিথিলতায়' তীব্র সমালোচনা করেছেন কবি, প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার। তাঁর ভাষায়, ‘গণঅভ্যুত্থানের ফসল হিসেবে গঠিত এই সরকার এখন জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে এলিট কমিশনের মাধ্যমে মন ভোলানোর চেষ্টা করছে।’
শুক্রবার (১৬ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে 'ফ্যাসিস্ট নিপীড়নমূলক প্রভাব' দূর করার দাবিতে ফ্যাসিস্টবিরোধী জুলাই নেটওয়ার্ক এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
ফরহাদ মজহার সরাসরি বলেন, “আপনারা (অন্তর্বর্তী সরকার) গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন। কিন্তু সেই জনগণের কাছেই এখন ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে টালবাহানা করছেন। কোনো নির্দিষ্ট রোডম্যাপ নেই, বরং এলিট কমিশন গঠন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন এজেন্সি এখন তরুণ সমাজ ও ছাত্রদের বিভক্ত করে দমননীতির নতুন রূপ তৈরি করতে চাইছে। “ছাত্রদের সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়া, মতাদর্শিক বিভেদ বাড়িয়ে আন্দোলন দুর্বল করার এই কৌশল আমরা বুঝি। যারা এসব চালাচ্ছেন, তাদের আমরা চিনি।”
সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ফরহাদ মজহার আরও বলেন-“ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান ঘটালেও তার কাঠামো এখনো অটুট। সংবিধান থেকে আইন, তথ্যপ্রযুক্তি থেকে নিরাপত্তা কাঠামো-সব কিছুতেই আগের দখলদারিত্ব রয়ে গেছে।
যদি তা গুঁড়িয়ে দেওয়া না যায়, তবে জনগণের মুক্তি অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।” বিটিআরসি এবং ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বর্তমান বাস্তবতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, “যেসব ইন্টারনেট ও টেলিকম প্রতিষ্ঠান একসময় শেখ হাসিনার দমননীতিকে টিকিয়ে রেখেছিল-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নজরদারি, ইন্টারনেট ব্লক করে আন্দোলন দমন করেছিল-তারা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি।”
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “এক সপ্তাহের মধ্যে যদি বিটিআরসি এবং সংশ্লিষ্ট টেলিকম কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আমরা বিটিআরসি’র সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করব।”
তরুণ সমাজের উদ্দেশ্যে ফরহাদ মজহার বলেন, “মতাদর্শিক বিতর্কে না গিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। ফ্যাসিস্টদের কৌশলই হচ্ছে তরুণদের বিভক্ত করে শক্তি ক্ষয় করা। আমাদের দরকার জনতার কাতারে একসঙ্গে দাঁড়ানো।”
তিনি আরও বলেন, “আন্দোলনের পর আন্দোলন, কিন্তু সংবিধান এখনো বদলায়নি।
বিটিআরসি, সাইবার আইন, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার নেপথ্যে যারা ছিল, তারা এখনো শক্তিশালী। তাই শুধু আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করলেই হবে না, তাদের দোসরদেরও নির্মূল করতে হবে।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন-লেখক জাহিদ জগৎ, কবি মোহাম্মদ রোমেল,জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাফিউল ইসলাম প্রমুখ।
তাঁরা সবাই সরকারের প্রতি আহ্বান জানান গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা, তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে ‘ফ্যাসিস্ট কাঠামো’ দূর করা এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা।
এই সমাবেশে ফরহাদ মজহারের বক্তব্য স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, আগামী দিনে আন্দোলনের লক্ষ্য হবে কেবল ক্ষমতা পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্র কাঠামোর গভীরে গেঁথে থাকা ফ্যাসিস্ট প্রভাব ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার।
তিনি বলেন, “নতুন সংবিধান, নতুন তথ্য আইন এবং জনগণের হাতে তথ্য ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।”

 


এ জাতীয় আরো খবর