ঢাকা | ১৬ মে ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হুসাইনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবারের ছাত্র আন্দোলনের সময়, যখন উত্তপ্ত মুহূর্তে তথ্য উপদেষ্টার দিকে বোতল ছোড়ার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে মোহাম্মদ হুসাইনকে আটক করে ডিবি। তবে তদন্ত শেষে তাকে নির্দোষ হিসেবে চিহ্নিত করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাটির আরও এক নতুন বাঁক এসেছে আজ সন্ধ্যায়, যখন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম নিজেই অভিযুক্ত হুসাইন ও তার পরিবারের সঙ্গে তোলা একটি ছবি নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়:
“প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মোহাম্মদ হুসাইনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমি তার ও পরিবারের সঙ্গে ডিবি অফিসে কথা বলেছি। সে ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ উপায়ে মত প্রকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।”
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, উপদেষ্টা মাহফুজ আলম হুসাইনকে আন্দোলনের পর নিজের বাসায় চা খেতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় প্রশাসনিকভাবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তথ্য উপদেষ্টা নিজেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হুসাইনকে পরিবারের জিম্মায় ছাড়ার অনুরোধ জানান। এরপরই বিকেলে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “তাকে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো উসকানিমূলক প্রমাণ মেলেনি। সে আবেগের বশে কাজ করেছে বলে জানিয়েছে।”
এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে সামিল হয়ে ‘তদন্ত ছাড়া কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে’ ডিবি অফিস ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন এবং তদন্তসাপেক্ষেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা আন্দোলন করেছি সমস্যার সমাধানের জন্য, কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণের জন্য নয়। প্রশাসন যেভাবে বিষয়টি সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে মীমাংসা করেছে, তাতে আমরা আশাবাদী।”
তথ্য উপদেষ্টার ফেসবুক পোস্টে আরও জানানো হয়, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সমস্যা, বিশেষ করে আবাসন সংকট নিয়ে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে।”
উল্লেখ্য, রাজধানীর কেন্দ্রে অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো ছাত্রদের জন্য নিরাপদ ও সুলভ আবাসন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা বারবার আন্দোলনে নেমেছে।
বোতল নিক্ষেপের মতো উত্তেজনাকর একটি ঘটনা শেষ পর্যন্ত মীমাংসার পথে হেঁটেছে প্রশাসন ও শিক্ষার্থীরা। যেভাবে তথ্য উপদেষ্টা নিজেই ‘আক্রমণকারী’ হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষার্থীকে আত্মিকভাবে গ্রহণ করেছেন, সেটি এ ধরনের ঘটনা মোকাবেলায় প্রশাসনিক নমনীয়তা ও মানবিকতা-দুইয়েরই এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকল।
জবির শিক্ষার্থীরা এখন অপেক্ষায়-সরকার ঘোষিত সেই রোডম্যাপের, যা বাস্তব সমাধানের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।