বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১১, ২০২৬

ছাত্রদল নেতা সাম্যর মৃত্যু: জাতীয় সংগীত ও পতাকার পক্ষে অবস্থানের ‘মূল্য’ কি মৃত্যুই?-রিজভীর প্রশ্ন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
  • ২০২৫-০৫-১৫ ১৬:২৩:৩৮
ছবি সংগৃহিত

জাতীয় পতাকা ও সংগীতের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই কি হয়ে উঠেছে মৃত্যুর কারণ?-এমনই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেছেন, স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্যকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, আর সেটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বৃহস্পতিবার (১৬ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই অভিযোগ করেন তিনি। মানববন্ধনটি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা সাম্যর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে।
রিজভী বলেন, “সাম্যর কী অপরাধ ছিল? সে কি শুধু জাতীয় সংগীত, পতাকা আর স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার ছিল বলে তাকে মরতে হলো? কয়েকদিন আগেই শাহবাগে জাতীয় সংগীতের বিরোধিতায় কিছু কর্মসূচি হয়েছিল, সাম্য এর প্রতিবাদ করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়। এরপরই তাকে নিশানা করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডে তিন ভবঘুরে যুবকের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু মানুষ প্রশ্ন করছে-তিন ভবঘুরে কেন একজন ছাত্রনেতাকে টার্গেট করবে? এখানে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।”
রিজভীর বক্তব্যে উঠে আসে হতাশা ও ক্ষোভ-“৫ আগস্টের পর দেশের রাজনীতিতে যে পরিবর্তন এসেছে, তাতে আশা ছিল ক্যাম্পাসগুলো মুক্ত হবে ভয়ের আবহ থেকে। অথচ এখনো রক্ত ঝরছে! সাম্যর মতো তরুণ ছাত্রনেতা খুন হচ্ছেন। কেন?”
তিনি বলেন, “আজকে তো আর হাসিনা সরকার নেই, আওয়ামী দোসরদের দমননীতি নেই। তাহলে এখন ক্যাম্পাসে ছাত্রদের লাশ কেন পড়ছে? এটি গণতান্ত্রিক শক্তির জন্য লজ্জাজনক।”
রিজভী তাঁর বক্তব্যে অতীতের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ছাত্র হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “আমরা ভুলিনি আবরারকে, যে পার্শ্ববর্তী দেশের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল বলে প্রাণ হারায়। ভুলিনি তফাজ্জলকে, যে জানুয়ারিতে খুন হয়। আর আজ সাম্য। একটা বিষয় স্পষ্ট-যারা দেশ, পতাকা, স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ায়, তাদের রক্ত ঝরছে।”
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি পুলিশের দিকেও অভিযোগের আঙুল তোলেন। তিনি বলেন, “যাদের ধরা হয়েছে, তারা ভবঘুরে বলা হচ্ছে। জনগণ এটা সহজভাবে নেয় না। সত্য অনুসন্ধানের বদলে দায়সারা তদন্ত করলে বিচার আসে না। আবরার হত্যার বিচার যেমন হয়নি, সাম্য হত্যাও তেমনই হারিয়ে যাবে-এটাই আমাদের আশঙ্কা।”
“ক্যাম্পাস হবে জ্ঞানের আলোয় উজ্জ্বল, এখানে থাকবে শান্তির পতাকা, রক্তপাত নয়”-এই প্রত্যাশার কথা জানিয়ে রিজভী বলেন, “একটি স্বাধীন দেশে জাতীয় সংগীত গাওয়ার অপরাধে যদি তরুণদের খুন হতে হয়, তবে আমরা কোন স্বাধীনতার কথা বলি?”
সাম্যর মৃত্যু নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে নয়; এটি হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক পরিপার্শ্ব, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা এবং জাতীয় মূল্যবোধ নিয়ে সমাজের চিন্তার এক প্রজ্বলিত প্রশ্নচিহ্ন। তদন্তের নামে দায়সারা কার্যক্রম নয়, প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়া, যাতে এমন মৃত্যু আর কোনো সাম্যকে না গ্রাস করে।

 


এ জাতীয় আরো খবর