শনিবার, মে ৩০, ২০২৬

আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষণায় ভারতের উদ্বেগ: গণতন্ত্র নিয়ে দিল্লির সরব অবস্থান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
  • ২০২৫-০৫-১৩ ২৩:২০:৫৫
ছবি সংগৃহিত

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া জোরালো হচ্ছে। ভারত সরকার এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হওয়ার বিষয়ে সরব অবস্থান নিয়েছে।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আয়োজিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন,
“কোনো উপযুক্ত পদ্ধতি অনুসরণ না করেই বাংলাদেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
তিনি আরও যোগ করেন,“একটি গণতান্ত্রিক দেশের স্বরূপ বজায় রাখতে রাজনৈতিক মত প্রকাশের স্বাধীনতা অপরিহার্য। বাংলাদেশে যেভাবে গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হয়ে আসছে, তা নিয়ে ভারত স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন।”
এসময় রণধীর জয়সওয়াল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় নির্বাচনের ওপর-এমন অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন।
“আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে জনগণের ইচ্ছার যথাযথ প্রতিফলন ঘটবে এমন একটি নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।”
এর একদিন আগেই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জানানো হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল সহযোগী, অঙ্গ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন এসব সংগঠনের কোনো রকম জনসভা, প্রচার কার্যক্রম বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত সবসময়ই বাংলাদেশে একটি সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো বজায় রাখার পক্ষে।
বিশেষত, আওয়ামী লীগ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ও নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে দলটির নিষেধাজ্ঞার ঘটনায় ভারতের কূটনৈতিক সাড়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে যদিও দাবি করা হয়েছে, বিচারাধীন মামলার স্বার্থে এবং সামাজিক স্থিতি বজায় রাখতে এই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন ছিল, তবু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সংকুচিত হওয়ার আলামত হিসেবেই ধরা পড়ছে।
বাংলাদেশের রাজনীতির এই ক্রান্তিকালে প্রতিবেশী ভারতের এমন সরাসরি প্রতিক্রিয়া কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ভারতের নজর এখন যে শুধু সীমান্ত বা অর্থনৈতিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ নেই,বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক গতিপথের দিকেও তা গভীরভাবে প্রসারিত-তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে এই বিবৃতিতে।

 


এ জাতীয় আরো খবর