ফোন ধরতেই আম্মা নরম গলায় বললো,
কিরে এ বছরে লিচু কিনেছিস,
খেয়েছিস তো!
আমি কিন্তু তোর জন্য এখনও খাইনি।
এই আমার মা!
এ পৃথিবীতে আমার ছাতা।
আমাকে বোঝার মতো কেউ নেই,
এই মা ছাড়া।
রোদ বৃষ্টি ঝড় তুফান সব ঋতুতেই
আমার এক মাত্র অবলম্বন।
সে আমার দুঃখ বতী মা।
মা আমার দুঃখবতী শুধু আমার জন্য,
তার অন্য সন্তানদের জন্য নয়।
আমি যে মহা পাপী,
অথচ সে মহারানী।
মা আমার ধনী পরিবারের মেয়ে,
দেখতে ছোটো খাটো পুতুলের মতো।
আর আমরা তার গর্ভে হয়েছি
পশ্চিম পাকিস্তানিদের মতো এক একটা দৈত।
আমার বাবা ছিলো অবিকল দেখতে
পাঞ্জাবদের মতো।
মহারানী মা আমার
শুধু আমার জন্য জনমদুঃখী,
অথচ সুখ স্বাচ্ছন্দ বিত্ত ভৈরব তার পায়ে
লুটোপুটি করে অনায়াসে।
তার সকল দুঃখ আমার জন্য।
আমি তাকে শুধুই দুঃখ দিয়ে এসেছি,
আমার করা প্রত্যেকটি অপরাধের দায়
আজ তার কাধে।
মুখবুঝে সহ্য করে হাজার কৈফিয়ত,
সকলের কাছে।
তাকে কখনও সুখ দিতে পারিনি,
আমার করা সব ভুলেগুলোর সিধান্ত তাকেই
কাধে করে নীরবে বইতে হচ্ছে এখনও।
যখনই বিপদে পড়ি
আমার জন্য এই গরমেও
নফল রোজা নামাজ মাানত রাখে,
আমাকে রক্ষা করবে বলে।
গর্ভেধারণ করার অপরাধে, জন্মের পরও
আমাকে রক্ষা করে যাচ্ছে।
সে যে আমার দুঃখবতী মা!
যাহ্ !
মার আবার আলাদা দিবস হয় নাকি?
সেতো সকাল বিকেল সন্ধ্যা রাতের প্রতিটি মুহূর্ত
জরিয়ে থাকে প্রাণের পরে।