শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬

আইনের আওতায় আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ করা সম্ভব-শৈলকুপায় অ্যাটর্নি জেনারেল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ঝিনাইদহ |
  • ২০২৫-০৫-০৯ ২২:২৮:২৫
ছবি সংগৃহিত

বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। শুক্রবার বিকেলে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, "১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৯ ধারা অনুযায়ী সরকার চাইলে কোনো দলকেই নিষিদ্ধ করতে পারে, এমনকি আওয়ামী লীগকেও।"
শৈলকুপা বণিক সমিতির সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এ সভায় দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন রাষ্ট্রের এই প্রধান আইন কর্মকর্তা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “জাতিসংঘের বিভিন্ন তদন্ত অনুযায়ী, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রায় ৭০০ মানুষ গুম হয়েছেন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ। এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।”

গায়েবি মামলা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের অবসান ঘটবে
আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, "সর্বমোট ৬০ লাখের বেশি ভুয়া বা গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার অধিকাংশই বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এসব রাজনৈতিক নিপীড়নমূলক মামলার বিচার হবে এবং দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।"
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান, "মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আসামি যত শক্তিশালী হোক, আইনের হাত আরও শক্তিশালী।"

৫ আগস্টের পর পাল্টেছে পরিস্থিতি
গত ৫ আগস্টের পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে বলেও দাবি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, “হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে একটিও গুমের ঘটনা ঘটেনি, কোনো মিথ্যা মামলা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন রাজনৈতিক হয়রানিতে জড়াচ্ছে না।”
এই প্রেক্ষাপটে তিনি নতুন সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরেন-"বাংলাদেশকে একটি বসবাসযোগ্য ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমাদের স্লোগান-আমার ভোট আমি দেব, যাকে ইচ্ছা তাকে দেব।"

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান
সরকারি কর্মচারী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কেউই চাঁদাবাজি, ঘুষ বা মাদকের সঙ্গে যুক্ত থাকলে ছাড় পাবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি বলেন, “সরকারি চাকরিজীবীরা যদি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন, শুধু বদলি নয়-তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হবে। উন্নয়নের অর্থ জনগণের টাকায় আসে, চাঁদাবাজদের হাতে এসব কাজে বাধা দেওয়া চলবে না।”

সভায় বক্তাদের প্রতিক্রিয়া
শৈলকুপা বণিক সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, জেলা চেম্বার অব কমার্স সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, দোকান মালিক সমিতির আহ্বায়ক আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, শৈলকুপা বণিক সমিতির সভাপতি আবু সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর সবুর খান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ প্রমুখ।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে রাজনৈতিক সহনশীলতা ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান।


এ জাতীয় আরো খবর